আসাদুজ্জামান শেখ// বরিশাল মাদক জুয়া হানি ট্রাপের শহরে পরিণত হয়েছে। সমাজকে ভেতর থেকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে মাদক জুয়া হানি ট্রাপের ভয়াবহ বিস্তার। এই তিনটি সামাজিক ব্যাধি কেবল ব্যক্তিজীবনকেই ধ্বংস করছে না,বরং জন্ম দিচ্ছে নানাবিধ অপরাধের। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে,সমাজে যারা মাদক জুয়া হানি ট্রাপের সাথে সম্পৃক্ত,তারা অনেকেই অর্থের প্রয়োজনে চুরি,ডাকাতি, ছিনতাই এবং অন্যান্য ছোটখাটো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
সমাজের একটি বড় অংশ আজ যুবসমাজ। কিন্তু মাদকের মরণছোবলে এই যুবশক্তি আজ বিপথগামী। অর্থের লালসায় অনেকেই মাদক ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়ছে। এদের মধ্যে এক অদ্ভুত প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দিনের আলোতে তারা সমাজের ‘সেবক’ সেজে ঘুরছে,কিন্তু রাতের আঁধারে চালাচ্ছে মাদকের কারবার। সাধারণ মানুষের চোখ এড়াতে তারা সামাজিক কাজকর্মে অংশ নিচ্ছে,দান-ধ্যান করছে,এমনকি রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে,এই ধরনের ‘ছদ্মবেশী সমাজসেবকদের’ চিনে বের করা এখন সময়ের দাবি। তারা বলছেন,মাদকের জোগান বন্ধ করতে না পারলে তরুণদের রক্ষা করা কঠিন হবে। পাশাপাশি, জুয়া হানি ট্র্যাপ ও একটি বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। জুয়া খেলার ফলে অনেকেই নিঃস্ব হয়ে পড়ছে এবং অর্থের প্রয়োজনে অপরাধমূলক কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে।
এলাকার বাসিন্দারা এই বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে,মাদক জুয়া হানি ট্রাপের সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা এলাকাতে অশান্তি তৈরি করছে। চুরি এবং অন্যান্য অপরাধের ঘটনা বেড়ে গেছে। তারা দাবি করেছেন যে,আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এই অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। গাছতলা থেকে শুরু করে দশ তলা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে এই ভয়ানক প্রবণতা।
পরিবারগুলোরও একটি বড় দায়িত্ব রয়েছে। সন্তানদের প্রতি নজর রাখা,তাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং নৈতিক মূল্যবোধ শিক্ষা দেওয়া জরুরি। সমাজকে সুস্থ রাখতে মাদক এবং জুয়ার বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে। প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
মাদক জুয়া হানিট্রাপ আমাদের সমাজকে শেষ করে দিচ্ছে,মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। এই তিনটি অপরাধের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে লড়াই করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি জনসাধারণেরও এগিয়ে আসতে হবে।
সুস্থ ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়তে মাদক জুয়া হানি ট্রাপকে ‘না’ বলার সময় এসেছে। মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে থাকা অপরাধীদের চিনে নিয়ে তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছেন বরিশাল বাসী।
https://slotbet.online/