নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) কাউনিয়া থানায় সমন্বিত মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার হওয়ার পর থেকে একের পর এক সফল আইনি পদক্ষেপে বিপাকে পড়েছে স্থানীয় মাদক চক্র। তবে মাঠপর্যায়ে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই পুলিশের গতিশীল কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত করতে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সনজিৎ চন্দ্র নাথ দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এলাকার চিহ্নিত মাদক স্পট ও কারবারিদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি এবং নিয়মিত টহল বৃদ্ধি করেন। এর ফলশ্রুতিতে বিগত কয়েক মাসে পরিচালনা করা ধারাবাহিক অভিযানে অর্ধশতাধিক মাদক কারবারি গ্রেপ্তার হয়েছে। এসব অভিযানে ইয়াবা, গাঁজা ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়, যা স্থানীয় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। পুলিশের এই কঠোর অবস্থানের সুফল পাচ্ছেন সাধারণ বাসিন্দারাও। স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে অলিগলিতে প্রকাশ্যে চলা মাদক ব্যবসায় পুলিশের ব্যাপক নজরদারির কারণে অনেকাংশে থমকে গেছে। নিয়মিত আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিকভাবে সচেতনতামূলক প্রচারণাও চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ প্রশাসন। তবে অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে এই সফলতা অর্জনের পর থেকেই মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে তথ্যভিত্তিক বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে কিছু পুরোনো ও ইতোমধ্যে মীমাংসিত বিষয়কে নতুন করে সামনে এনে বিতর্ক সৃষ্টির পায়তারা চলছে বলে অভিযোগ করেছে থানা কর্তৃপক্ষ। অভিযোগের বিষয়ে কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সনজিৎ চন্দ্র নাথ জানান, মাদকবিরোধী ধারাবাহিক অভিযানের ফলে চিহ্নিত কারবারিরা বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। এ কারণে অভিযানে যুক্ত মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তথ্য বিকৃতি ঘটানো হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অতীতে কিছু সদস্যকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ পূর্ণাঙ্গ তদন্ত সম্পন্ন করেছিলেন, যেখানে তারা সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণিত হন। বর্তমানে সেই পুরোনো প্রসঙ্গগুলোকে ভিত্তি করে সাংবাদিকদের বিভ্রান্ত করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসত্য তথ্য ছড়িয়ে কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে কোনো ধরনের গুজব বা অপপ্রচারে অভিযান থামবে না এবং অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সতর্ক করেন তিনি। এদিকে সার্বিক পরিস্থিতিতে স্থানীয় সচেতন মহল পুলিশের উদ্যোগকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাদের মতে, অভিযানের নামে যেন কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পুলিশের বিরুদ্ধে উঠা যেকোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পেশাদারিত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানান তারা।
সংবাদে প্রকাশিত ছবিটি প্রতিকি ছবি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
https://slotbet.online/