নিয়াজ শেখ, বরিশাল
বরিশাল নগরীতে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদারের উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকা বড় মাদক কারবারিরা আইনের আওতার বাইরেই থেকে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। কাউনিয়া থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার পবিত্র কুমার হালদার এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সঞ্জিত চন্দ্র নাথ যোগদানের পর থেকে মাদক নির্মূলে দিনরাত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের এই জোরালো চেষ্টা ও পুলিশি তৎপরতা সত্ত্বেও চতুর চক্রগুলো বারবার অবস্থান ও কৌশল পরিবর্তন করে মাদক সরবরাহ বজায় রাখছে। ঢাকঢোল পিটিয়ে পরিচালনা করা কিছু অভিযানের আগাম খবর পেয়ে অপরাধীরা সটকে পড়ায় মূলত খুচরা বিক্রেতা ও ছোটখাটো বাহকরাই গ্রেপ্তার হচ্ছে। ফলে মাদকের নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালী ও অর্থদাতাদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা দৃশ্যমান হচ্ছে না। নগরীর কাউনিয়া, পলাশপুর, কাশীপুর, বরিশাল কলেজসংলগ্ন এলাকা, আমিনবাড়ি, হাসপাতাল রোড, কাউনিয়া ফার্স্ট লাইন, মনসাবাড়ি, কাউনিয়া মেইন রোড ও ভাটিখানাসহ একাধিক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকের কেনাবেচা চলছে। মাঝেমধ্যে গ্রেপ্তার হলেও পুলিশ এলাকা ছাড়ার পরপরই আবার শুরু হয় কেনাবেচা, যা কিশোর ও তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ১২-১৩ বছর ধরে সক্রিয় থাকা এই চক্রের পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। এমনকি চক্রের কেউ কেউ নিজেদের গোয়েন্দা পুলিশের ‘সোর্স’ পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তার করছে এবং মাদকবিরোধী অবস্থান নেওয়া মানুষদের নানা ভয়ভীতি ও মিথ্যা মামলার হুমকি দিচ্ছে।মাদক কারবারের মাধ্যমে অর্জিত বিপুল অর্থ দিয়ে অভিযুক্তরা নগরীর পলাশপুর, কাশীপুর ও ছয়মাইলসহ বিভিন্ন এলাকায় নিজের ও পরিবারের নামে বাড়ি, জমি, অটোরিকশা ও সিএনজিসহ প্রচুর সম্পত্তি গড়ে তুলেছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব সম্পদের প্রকৃত মালিকানা, ক্রয়ের সময়কাল এবং অর্থের উৎস খতিয়ে দেখলেই মূল থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে। বরিশালবাসীর দাবি, মাদকের বিস্তার বন্ধ করতে হলে শুধু থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের ওপর নির্ভর না করে র্যাবসহ অন্যান্য বিশেষায়িত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত ও গোপনীয় অভিযান প্রয়োজন। একই সঙ্গে পুলিশ কমিশনারের কাছে অভিযুক্তদের কল রেকর্ড যাচাই, সম্পদের উৎস অনুসন্ধান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কোনো যোগসাজশ আছে কি না তার তদন্ত এবং প্রতিবাদকারী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, গ্রেপ্তার সংখ্যার চেয়ে মাদকের পুরো নেটওয়ার্ক, অর্থায়ন ও উৎস পুরোপুরি ধ্বংস করাই হোক এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।
https://slotbet.online/