নিজস্ব প্রতিবেদক: বরিশাল নগরীর রূপাতলী হাউজিং এলাকায় ডিস (স্যাটেলাইট ক্যাবল) ব্যবসার আড়ালে ভয়ংকর মাদক ব্যবসা ও ‘হানি ট্র্যাপ’ সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে আবু সালে রনি ওরফে ‘ডিস রনি’র বিরুদ্ধে। পিতার নাম মোকসেদ। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাউজিংয়ের ১২ নম্বর রোডে রনির ফ্ল্যাটে অভিযান পরিচালনা করেন ডিবি পরিদর্শক এসআই ফিরোজ।
অভিযান চলাকালে বাসা থেকে রনি ও তার সহযোগীরা চতুরতার সাথে কেটে পড়লেও ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক সেবনের সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়।
অভিযানের ঘন্টাখানেক আগে রূপাতলী হাউজিংয়ের মূল সড়কে দুই তরুণী মাদকাসক্ত অবস্থায় মাতলামি করা শুরু করলে স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশকে জানায়। তাৎক্ষণিক জিজ্ঞাসাবাদে তরুণী দুজন স্বীকার করেন যে,তারা ডিস রনির দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে সরাসরি ইয়াবা সেবন করে বের হয়েছেন। তাদের দেয়া তথ্যের সূত্র ধরেই ডিবি পুলিশ সেখানে হানা দেয়।
তল্লাশিকালে মাদক বিক্রির প্রমাণ হিসেবে ২০টিরও বেশি রহস্যজনক ফাইল এবং ইয়াবা সেবনের সুনির্দিষ্ট ও সদ্য ব্যবহৃত সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
অভিযানে পুলিশ উপস্থিত হলে বাসায় অবস্থানরত রনির মা,বাবা ও ভাগ্নি প্রথমে গেট খুলতে অস্বীকৃতি জানান এবং পুলিশ সদস্যদের সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। তারা পুলিশের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে ‘সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার’ পরিচয়দানকারী এক ব্যক্তির সাথে মোবাইল ফোনে ডিবি কর্মকর্তাদের কথা বলিয়ে দেন।
রনির ভাগ্নি দাবি করেন যে,এই বাসায় গত দুই মাস যাবত কেউ থাকেন না। তবে মাতলামির অপরাধে আটক তরুণীরা ঘটনাস্থলেই উন্মোচন করেন যে,তারা এই বাসা থেকে কিছুক্ষণ আগেই ইয়াবা খেয়ে বের হয়েছেন এবং বিগত দুই দিন ধরে সেখানে অবস্থান করে রনির সাথে আড্ডা ও রান্নাবান্না করে খাওয়া দাওয়া করেছেন। এমন কি রাত যাপন করেছেন। রূপাতলী হাউজিংয়ে মাদক সেবনকারী তরুণীদের আনাগোনা নিয়ন্ত্রণ ও হানি ট্র্যাপের আড়াল হিসেবে রনির ভাগ্নি ‘মক্ষীরানী’র দায়িত্ব পালন করছেন বলে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে। পরবর্তীতে পুলিশ নেশাখোর মাতাল ওই দুই তরুণীকে রিকশা যোগে বাসায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ডিস রনি পুরো হাউজিং এলাকা নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন। তার অধিনে ৬ থেকে ৭ জন তরুণী এবং একাধিক যুবক কাজ করেন। সুন্দরী তরুণীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ধনাঢ্য ব্যক্তিদের ব্ল্যাকমেইল (হানি ট্র্যাপ) করা এবং রূপাতলীতে মাদকের পাইকারি ও খুচরা সরবরাহ করাই তার মূল কাজ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী বলেন ডিস ব্যবসার আড়ালে রনি একজন দুর্ধর্ষ মাদক কারবারি ও অপরাধ চক্রের মূলহোতা। ভয়ে এতদিন কেউ মুখ খোলেনি। প্রশাসন যদি এখনই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়,তবে হাউজিং এলাকার যুবক-যুবতী ও আগামী প্রজন্ম ধ্বংসের মুখে পড়বে। আমরা সাধারণ অধিবাসীরা রূপাতলী হাউজিংয়ের সুস্থ ও শান্ত পরিবেশ বজায় রাখতে এই অপরাধীর কঠোর শাস্তি দাবি করছি।
মাদক ব্যবসায়ী রনির মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: মামুন জানান মাদকের বিষয়ে আমাদের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অপরাধ চক্রের সাথে জড়িত সকল অপরাধীকে অতি দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
https://slotbet.online/