নিজস্ব প্রতিবেদক: বরিশালের চরকাউয়া ইউনিয়নে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) বাস্তবায়নাধীন একটি সেচ উন্নয়ন প্রকল্প এখন নানা অভিযোগে বিতর্কের কেন্দ্রে। বরিশাল–ভোলা–ঝালকাঠি–পিরোজপুর জেলা সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় খাল খননের যে কাজ শুরু হয়েছে, তা কৃষকের উপকারের বদলে প্রভাবশালী মহলের স্বার্থ রক্ষার মাধ্যম হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
২০২৪–২৫ অর্থবছরে চরকাউয়া ইউনিয়নের কাউয়ারচর মৌজায় ২ কিলোমিটার স্বনির্ভর খাল খননের অনুমোদন দেয়া হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে বিএডিসি বরিশাল নির্মাণ জোন এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ পায় মেসার্স আজমাইন এন্টারপ্রাইজ, খিলগাঁও, ঢাকা। প্রকল্পের নথি অনুযায়ী, নির্ধারিত ম্যাপ ও নকশা অনুসরণ করেই খাল খননের কথা ছিল।
এই খাল খননের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে সেচ সংকটে থাকা বিস্তীর্ণ কৃষিজমিকে পানির আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়। প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের পরিদর্শনের পর প্রকল্পটি অনুমোদিত হয় এবং কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে এটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হয়।
তবে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু হতেই সামনে আসে ভিন্ন বাস্তবতা। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্ধারিত ম্যাপ উপেক্ষা করে ইচ্ছাকৃতভাবে খালের গতিপথ বদলানো হয়েছে। যেসব জমির ওপর দিয়ে খাল যাওয়ার কথা ছিল, সেগুলো এড়িয়ে গিয়ে সাধারণ কৃষকদের জমির ভেতর দিয়ে খাল কাটা হচ্ছে। এতে একদিকে প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে ক্ষতির মুখে পড়ছেন নিরীহ কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, এই অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধ না হলে সেচ সুবিধা পাওয়ার আশা যেমন ভেঙে যাবে, তেমনি জমি হারানোর আশঙ্কাও বাড়বে। তারা দ্রুত প্রকল্পের কাজ পুনরায় ম্যাপ অনুযায়ী বাস্তবায়ন এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
https://slotbet.online/