নিজস্ব প্রতিবেদক: বরিশালে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে জেলা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি সবুজ আকনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বিচারিক প্রক্রিয়ার জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে।
আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে চার্জশিট গ্রহণ করা হলেও মামলাটি এখনও বিচারিক নথিতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির উপপরিদর্শক গাজী অহিদুল ইসলাম অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, প্রাথমিক তদন্তে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর ৯(১) ধারায় অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট ধারাটি ধর্ষণসংক্রান্ত অপরাধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, অভিযুক্তের স্ত্রী গর্ভবতী থাকাকালে তার দেখভালের জন্য স্ত্রীর বোনের কিশোরী মেয়েকে বাসায় রাখা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সেই সময় অভিযুক্ত তাকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করেন এবং ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট নগরীর এসআর রোড এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে গিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। ঘটনাটি গোপন রাখতে ভুক্তভোগী ও তার মাকে হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার প্রায় ছয় মাস পর, চলতি বছরের ২৬ মে ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। প্রথমে মামলাটি তদন্ত করেন কাউনিয়া থানার এক উপপরিদর্শক। পরবর্তীতে তদন্তভার হস্তান্তর করা হয় ডিবির কাছে।
অভিযোগ ওঠার পর গত বছরের ২৫ মে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতৃত্ব সবুজ আকনকে জেলা সহ-সভাপতির পদসহ সব পর্যায়ের সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সাময়িক বহিষ্কার করে। তবে স্থানীয় সূত্রের দাবি, বহিষ্কারের পরও তিনি দলীয় ব্যানারে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করেন।
অভিযুক্ত সবুজ আকন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মামলাটি তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক। তিনি দাবি করেন, চার্জশিট দাখিলের বিষয়েও তিনি নিশ্চিত নন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন।
মামলাটি এখন বিচারিক প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত মামলাগুলো বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন হয় এবং প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।
https://slotbet.online/