বিশেষ প্রতিনিধি, বরিশাল: নতুন নির্মিত সড়কের পেট কেটে অবৈধ ড্রেজারের পাইপ ঢুকিয়ে বালু উত্তোলন? এবার আর কোনো ছাড় নয়! অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায়ীদের সিণ্ডিকেট ও অপকর্মের আস্তানায় সজোরে আঘাত হানলেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন। অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, জনগণের আমানত ও সরকারি সম্পদ নষ্ট করলে পরিণতি যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে—বৃহস্পতিবার নগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে তারই এক হাতেনাতে প্রমাণ মিলল।আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টায় নগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের নবনির্মিত আবেদ আলী শাহ সড়ক নিয়ে স্থানীয় ভুক্তভোগী বাসিন্দাদের অভিযোগ পাওয়া মাত্রই আর এক মুহূর্তও দেরি করেননি বিসিসি প্রশাসক। কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই তিনি সরাসরি হাজির হন ঘটনাস্থলে। পরিদর্শনের সময় এক আঁতকে ওঠার মতো দৃশ্য উন্মোচিত হয়। দেখা যায়, লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে সদ্য সমাপ্ত ‘আবেদ আলী শাহ সড়ক’-এর পেটের ভেতর দিয়ে অবৈধভাবে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে ড্রেজারের বিশালাকার পাইপ! আইন-কানুন ও স্থায়িত্বের তোয়াক্কা না করে সড়ক ধ্বংস করে চলছিল অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব। জনস্বার্থবিরোধী এমন তাণ্ডব প্রত্যক্ষ করা মাত্রই এক চুল ছাড় দেননি সিটি প্রশাসক। অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে উঠে ঘটনাস্থলেই উচ্ছেদ কর্মীদের কঠোর নির্দেশ দেন অবৈধ পাইপগুলো ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য। প্রশাসকের বজ্রকঠিন উপস্থিতিতেই মুহূর্তে একের পর এক অবৈধ ড্রেজার পাইপ ভেঙে টুকরো টুকরো করে দেওয়া হয়। শুধু পাইপ ভাঙাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না বিসিসির এই অ্যাকশন। এই জঘন্য অপকর্মের পেছনে যারা রয়েছে—সেইসব অসাধু ড্রেজার ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেটের সদস্যদের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন আইনি ব্যবস্থা ও মামলা দায়েরের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন বিসিসি প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন। উচ্ছেদ অভিযানকালে বিসিসির আইন উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট শাহ আমিনুল ইসলাম, বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সদস্য সচিব নাভিদ রহমান তুষারসহ স্থানীয় ভুক্তভোগী বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দারা সিটি প্রশাসকের এই সাহসী ও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। বিসিসির এই রূপ দেখে স্পষ্ট বার্তা পেয়ে গেছে নগরীর আনাচে-কানাচে লুকিয়ে থাকা অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায়ীরা—জনস্বার্থ ও সরকারি সম্পদের ওপর হাত দিলে এবার আর রক্ষা নেই! আইন নিজের শক্ত হাতেই ব্যবস্থা নেবে।
https://slotbet.online/