নিজস্ব প্রতিবেদক: বরিশাল মহানগরীর কাউনিয়া থানা এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে পরিচালিত কঠোর অভিযানে গত ১৫ দিনে ২২ জন মাদক সেবনকারী ও ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। অভিযুক্তদের সবারই ডোপ টেস্ট পজিটিভ আসার পর বিজ্ঞ আদালত তাদের বিভিন্ন মেয়াদে মোট ১ হাজার ১৫৭ দিনের কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার ১০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন।
কাউনিয়া থানা সূত্রের তথ্যমতে, মাদকের বিস্তৃতি রোধে ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত থানার বিভিন্ন পয়েন্টে জিরো টলারেন্স নীতিতে ধারাবাহিক অভিযান চালানো হয়। অভিযানে সন্দেহভাজন ২২ জনকে আটক করে আধুনিক ডোপ টেস্টের মুখোমুখি করা হলে প্রত্যেকের নমুনাতেই মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। পরবর্তীতে আটক ব্যক্তিদের সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে বিজ্ঞ আদালতে উপস্থাপন করা হয়। বিচারক সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতি (সামারি ট্রায়াল) প্রয়োগ করে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী তাদের দণ্ডাদেশ প্রদান করেন। পুলিশ জানায়, শুধু গ্রেপ্তার বা মামলায় সীমাবদ্ধ না থেকে অপরাধীদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনতেই এই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।কাউনিয়া থানার এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, বরিশাল মহানগরীকে মাদকমুক্ত রাখতে এই ধারাবাহিক নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক সেবনকারী, খুচরা বিক্রেতা কিংবা মূল সরবরাহকারী—কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার ওপর জোর দিচ্ছে থানা পুলিশ। পাশাপাশি বিশেষজ্ঞদের মতে কেবল কারাদণ্ড দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে মাদক সমস্যা দূর করা সম্ভব নয়। আটক মাদকাসক্তদের জন্য শাস্তি কার্যকর করার পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে পর্যাপ্ত চিকিৎসা, নিয়মিত কাউন্সেলিং ও পুনর্বাসনের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। তবেই সমাজ থেকে মাদকের চাহিদা স্থায়ীভাবে নির্মূল করা সম্ভব হবে।
https://slotbet.online/