নিয়াজ শেখ : বাবাকে মারধর করা হচ্ছে, খবর পেয়ে ছুটে এলো মাত্র ৯ বছরের মেয়ে। চোখে পানি, কণ্ঠে কান্না। ছোট্ট মেয়েটির একটাই অনুরোধ, বাবাকে যেন আর না মারা হয়। কিছুক্ষণ পর বাবার জন্য চা ও রুটি নিয়ে ফিরে এসে নিজের হাতে রুটি ভিজিয়ে বাবার মুখে তুলে দিল সে। দৃশ্যটি উপস্থিত মানুষের মধ্যে তৈরি করে এক আবেগঘন পরিবেশ। বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল বাজারে চুরির অভিযোগে অনিক হাওলাদার নামে এক ব্যক্তিকে আটকে মারধরের সময় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা জানান, গত ২৬ সেপ্টেম্বর ভোরে বামরাইল বাজারে চুরির অভিযোগে কয়েকজন অনিক হাওলাদারকে আটক করেন। পরে তাকে একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে অনিকের ৯ বছরের মেয়ে। বাবাকে ওই অবস্থায় দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ে সে। উপস্থিত লোকজনের কাছে বাবাকে মারধর না করার অনুরোধ করতে থাকে শিশুটি। একপর্যায়ে বাবার জন্য চা ও রুটি নিয়ে আসে সে। চায়ের মধ্যে রুটি ভিজিয়ে বাবার মুখে তুলে দিতে দিতে কাঁদতে কাঁদতে বলে, “দেইখো বাবা, তোমার কিচ্ছু হইবে না।” এরপর বাবার শরীরের ব্যথার জায়গায় হাত বুলিয়ে দিয়ে জানতে চায়, বেশি ব্যথা পাইছো বাবা? বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য না মিথ্যা, তা আইনগত প্রক্রিয়ায় নির্ধারণের বিষয়। তবে সেই মুহূর্তে এসব কিছুই বুঝতে পারেনি শিশুটি। তার কাছে বাবা ছিলেন কেবলই একজন অসহায় মানুষ, যাকে ব্যথার মধ্যে একা ছেড়ে যাওয়া যায় না। স্থানীয়দের দাবি, অনিক হাওলাদারের বিরুদ্ধে এর আগেও চুরির অভিযোগ উঠেছিল এবং স্থানীয়ভাবে সেসব বিষয় মীমাংসা করা হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার পর স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করে অনিককে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। উজিরপুর মডেল থানার ওসি মো. রকিবুল ইসলাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিও দেখে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি নিজেদের মধ্যে সমাধান করে নেন। এ ঘটনায় কেউ থানায় অভিযোগ করেননি। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও, পুরো ঘটনার সবচেয়ে হৃদয়স্পর্শী হয়ে থেকে গেছে ছোট্ট মেয়েটির সেই দৃশ্য। চারপাশে যখন অভিযোগ আর শাস্তির আলোচনা, তখন তার পৃথিবীজুড়ে ছিল শুধু একটাই সত্য—বাবা ব্যথা পেয়েছেন, আর তাকে বাবার পাশে দাঁড়াতেই হবে।
বাবাকে বাঁচাতে একটি শিশুর সেই আকুলতা হয়তো খুব ছোট্ট একটি ঘটনা। কিন্তু সেই দৃশ্য আবারো মনে করিয়ে দেয়, পৃথিবীর সব সম্পর্কের হিসাব-নিকাশের ঊর্ধ্বে কিছু ভালোবাসা থাকে। যার একটি হলো—বাবা ও মেয়ের সম্পর্ক।
https://slotbet.online/