বিশেষ প্রতিবেদক | বরিশাল
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) কাউনিয়া থানার সহকারী কমিশনার (এসি) পবিত্র কুমার হালদার এবং ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সনজিত চন্দ্র নাথকে একযোগে বদলি করা হয়েছে। সম্প্রতি মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কর্তৃক জারিকৃত এক অফিস আদেশে এই বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এই দুই অভিজ্ঞ ও কর্মঠ কর্মকর্তাকে কাউনিয়া থেকে বদলি করে বন্দর এবং এয়ারপোর্ট থানায় ন্যস্ত করা হয়েছে। তবে তাদের এই আকস্মিক প্রস্থানকে এলাকার সাধারণ মানুষ ও সচেতন নাগরিক সমাজ সহজে মেনে নিতে পারছে না; বরং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও অপরাধের মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার আশঙ্কায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।
অপরাধ দমনে যে রেকর্ড গড়েছিলেন এই দুই কর্মকর্তা
খোঁজ নিয়ে এবং স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, এসি পবিত্র কুমার হালদার ও ওসি সনজিত চন্দ্র নাথ কাউনিয়া থানায় যোগদানের পর থেকেই এলাকার অপরাধ দমনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিলেন। তাদের একের পর এক সাহসী ও সফল অভিযানে অপরাধ জগতের মূল শিকড় নড়ে উঠেছিল।
মাদক নির্মূলে কঠোর অবস্থান: মাদক উদ্ধারে তারা পরিচালনা করেন একের পর এক সাঁড়াশি অভিযান। কাউনিয়া এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারি থেকে শুরু করে খুচরা বিক্রেতারাও কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন। অনেকে বাধ্য হয়ে শহর ছেড়ে পালিয়েছিলেন, আবার কেউ কেউ অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক ও সুস্থ জীবনে ফিরে এসেছিলেন।
অস্ত্র উদ্ধার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা: মাদকের পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারেও তারা অসামান্য দক্ষতার পরিচয় দেন। কাউনিয়ার বিভিন্ন স্থানে একাধিক সফল অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়, যা বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়াতে সাহায্য করেছিল।
কিশোর গ্যাং দমনে সাফল্য: বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় সামাজিক সমস্যা কিশোর গ্যাং দমনে এই দুই কর্মকর্তা ছিলেন আপসহীন। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের আড্ডাবাজি ও বিপথগামিতা রোধে তারা কঠোর পদক্ষেপ নেন, যার ফলে অনেক কিশোর আবার ফিরে আসে পড়াশোনার টেবিলে। অভিভাবক মহল এ বিষয়ে তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আসছিল।
অপরাধীদের উল্লাস ও এলাকাবাসীর হতাশা
একাধিক সফল অভিযানের মাধ্যমে কাউনিয়া থানাকে একটি নিরাপদ জনপদে রূপান্তরকারী এই দুই পুলিশ কর্মকর্তার হঠাৎ বদলির খবরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। যেখানে স্থানীয় সচেতন নাগরিক, শিক্ষক ও অভিভাবকরা এই সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করছেন, ঠিক উল্টো চিত্র দেখা গেছে অপরাধজগতে। খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী ও অপরাধ চক্রের সদস্যদের মধ্যে একাট্টা হয়ে আনন্দ উল্লাস করতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র। এলাকাবাসীর মতে, অপরাধীদের কোণঠাসা করে রাখা এই দুই কর্মকর্তাকে হঠাৎ সরিয়ে দেওয়া জননিরাপত্তার জন্য একটি বড় ধাক্কা।
অপরাধ দমনে ভূমিকা নিয়ে আলোচনা
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দায়িত্ব পালনকালে এই দুই কর্মকর্তা মাদকবিরোধী অভিযান, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। তাঁদের নেতৃত্বে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে অপরাধ দমনে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছিল বলে মনে করেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা।
ফলে একযোগে দুই কর্মকর্তার বদলির খবরে হতাশা প্রকাশ করেছেন অনেকে। তাঁদের আশঙ্কা, নেতৃত্বের পরিবর্তনে চলমান অপরাধবিরোধী কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা ব্যাহত হতে পারে।
নতুন নেতৃত্বের সামনে চ্যালেঞ্জ
কাউনিয়া থানায় নতুন নেতৃত্বের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, কর্মকর্তা পরিবর্তিত হলেও অপরাধ দমনে পুলিশের তৎপরতা কমবে না। তবে পুলিশের নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বদলি হওয়ায় শুধু এ সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য অনুমান করা সমীচীন নয়। এটি সরকারী চাকুরীর একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া, এমনটি নিশ্চিত করেছে পুলিশের একাধিক উর্ধত্বন কর্মকর্তা।
কাউনিয়াবাসীর মূল প্রত্যাশা—নেতৃত্বের পরিবর্তন নয়, অপরাধ দমনে কার্যকর ধারাবাহিকতা এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা।
https://slotbet.online/