• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
দেশজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযানে ২২ লাখের বেশি ইয়াবা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১,৩৩০ জন। বরিশালে ডোপ টেস্টে ধরা দুই যুবকের কারাদণ্ড। বরিশালে ৪৪৭ পিস ই/য়া/বা সহ দুই সহোদর আটক। বরিশাল তরুণ সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের নতুন কমিটি গঠন, সভাপতি ওমর ফারুক ও সম্পাদক আল-আমিন গাজী। বরিশালে ২০৩৫ পিস ইয়াবাসহ সাবেক সেনাসদস্য ও তার স্ত্রী আটক। বরিশালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সশস্ত্র মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণ, আটক ১ বরিশালে চুরি হওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধার, আটক ৪ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাউনিয়া থানা পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, সন্দেহভাজন আটক ৪ চলমান মাদক বিরোধী অভিযানেও নিরবিচ্ছিন্ন রসুলপুরের সোহাগীর মাদক সরবরাহ। ধরন ও মাধ্যম পাল্টে নতুন পরিকল্পনা। কাউখালীতে গৃহবধূ হত্যা: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত গ্রেপ্তার।

দেশজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযানে ২২ লাখের বেশি ইয়াবা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১,৩৩০ জন।

প্রতিনিধি / ২৬ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক | নাগরিক বরিশাল
দেশজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযানে ২২ লাখ ৭৫ হাজার ৪১ পিস ইয়াবাসহ বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। ২০২৬ সালের ১২ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ১৪ দিনের অভিযানে ১ হাজার ৩৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময়ে মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত ১ হাজার ২৬৮টি মামলা হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সরকারের ঘোষিত মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সারা দেশে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় মোট ৪ হাজার ৩৯টি অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানগুলোতে ইয়াবার পাশাপাশি গাঁজা, হেরোইন, ফেনসিডিল, বিদেশি মদ, কুশ, ট্যাপেন্টাডলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। মাদক অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা অন্যান্য মাদকের মধ্যে রয়েছে ১৬৫ কেজি ৮১৮ গ্রাম গাঁজা, ৬২৯ গ্রাম হেরোইন, ৭৮১ বোতল ফেনসিডিল, ৩৩৯ বোতল বিদেশি মদ, ৪ দশমিক ২৮ কেজি টিএইচসি-যুক্ত কুশ এবং ১১৮ অ্যাম্পুল ইনজেকটিং ড্রাগ। এ ছাড়া ৬৪২ দশমিক ২ লিটার চোলাই মদ এবং ১৩ হাজার ৮৪১ পিস ট্যাপেন্টাডল উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানে একটি অস্ত্র, এক রাউন্ড গুলি এবং মাদক বিক্রির ১৫ লাখ ৬৬ হাজার ৪০ টাকা জব্দ করা হয়েছে। ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় উল্লেখযোগ্য অভিযান
অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার ভাটারা এলাকায় ৩৪ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কক্সবাজারে ২০ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে একজনকে।।হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৪ দশমিক ২৮ কেজি টিএইচসি-যুক্ত কুশসহ একজন ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঢাকার গুলশান-২ এলাকায় ২২৩ বোতল বিদেশি মদ ও ৬৭ লিটার বিয়ারসহ একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সবুজবাগে ৪০০ গ্রাম হেরোইনসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে দুজনকে। এ ছাড়া ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ৩০ কেজি গাঁজাসহ দুজন এবং নেত্রকোণা সদরে ৫৬০ বোতল ফেনসিডিলসহ একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মাদকবিরোধী কার্যক্রমের পাশাপাশি মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও কাউন্সেলিং সেবাও অব্যাহত রেখেছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। প্রতিবেদনকালে সরকারি পর্যায়ে ৫৭৬ জন এবং বেসরকারি পর্যায়ে ১ হাজার ৫৬১ জনকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন ২ হাজার ১৩৭ জন। একই সময়ে সরকারি পর্যায়ে ১৭২ জন এবং বেসরকারি পর্যায়ে ১ হাজার ৮৪৭ জনকে কাউন্সেলিং দেওয়া হয়েছে। এতে মোট কাউন্সেলিং সেবাগ্রহীতার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৯ জন।
মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক পরিসরে একাধিক কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময়ে ১৪টি মাদকবিরোধী সভা ও সেমিনার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২৮টি অ্যাসেম্বলি, শ্রেণিকক্ষভিত্তিক বক্তৃতা ও শপথ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে ১ হাজার ৮৬৫টি মাদকবিরোধী কলম, ১ হাজার ৫৬৯টি খাতা, ৩৫০টি স্কেল এবং ৬২০টি জ্যামিতি বক্স। এ ছাড়া ১৯ হাজার ৬৯০টি লিফলেট, ১ হাজার ৭৭৬টি স্টিকার, ৮৪টি অ্যাক্রিলিক পিভিসি বোর্ড এবং ১৩টি ফোল্ডার বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ফেসবুক পেজ, ইউটিউব চ্যানেলসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১০টি মাদকবিরোধী ফিচার ও টেলিভিশন বিজ্ঞাপন (টিভিসি) প্রচার করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ক্লাব, এনজিও ও সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে ৬৩টি আলোচনা সভা, শর্টফিল্ম, টিভিসি ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে ২০ জন শিক্ষককে মাদকবিরোধী প্রশিক্ষক ও মেন্টর হিসেবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এসব কার্যক্রমে একদিকে মাদক পাচার ও বিক্রির বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ, অন্যদিকে মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা, কাউন্সেলিং ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তবে মাদকবিরোধী কার্যক্রমের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নির্ভর করবে মাদকের সরবরাহ ও চাহিদা কমানো, অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের কার্যকর চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার ওপর। সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মাদক নিয়ন্ত্রণ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...

https://slotbet.online/