• বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
চলমান মাদক বিরোধী অভিযানেও নিরবিচ্ছিন্ন রসুলপুরের সোহাগীর মাদক সরবরাহ। ধরন ও মাধ্যম পাল্টে নতুন পরিকল্পনা। কাউখালীতে গৃহবধূ হত্যা: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত গ্রেপ্তার। ইউএনও হাত ধরে আলোর পথে উজিরপুরে বাবার মুখে রুটি তুলে দেওয়া সেই ছোট্ট তুবা। এলপিজির তীব্র সংকট, ১২ কেজির সিলিন্ডার ২১০০ টাকা। বাবাকে মারধর, চা-রুটি হাতে ৯ বছরের মেয়ের ছুটে আসা। বিএমপি ডিবির অভিযানে ১,০০০ পিস কথিত ইয়াবাসহ আটক ১ বরিশালে সোহাগীকে ধরতে ব্যার্থ অভিযান : রসুলপুরে মাদক সিন্ডিকেটের ‘গা-ঢাকা’ কৌশল। বরিশালে মাদকবিরোধী অভিযানের আড়ালে সক্রিয় রসুলপুরের সোহাগী সিন্ডিকেট। গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার’র গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়’র প্রতিমন্ত্রী আহম্মেদ সোহেল মন্জুর সুমন এর বরিশাল শুভাগমনে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম বরিশাল জেলা দক্ষিন ও মহানগর কমিটির নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও ফুলেল শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। এ-সময় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের বরিশাল জেলা দক্ষিন আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান মিল্টন, মহানগর আহবায়ক মো. জুয়েল খান সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। বরিশাল কাউনিয়া থানার বিশেষ অভিযানে ১৫ দিনে ৯৩ জন আটক।

চলমান মাদক বিরোধী অভিযানেও নিরবিচ্ছিন্ন রসুলপুরের সোহাগীর মাদক সরবরাহ। ধরন ও মাধ্যম পাল্টে নতুন পরিকল্পনা।

প্রতিনিধি / ২৬ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
বরিশাল নগরীর রসুলপুরে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান নতুন কোনো ঘটনা নয়। পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে সেখানে অভিযান চালিয়েছেন।সম্প্রতি রসুলপুর এলাকা থেকে ৯০ কেজি গাঁজা উদ্ধার এবং এ ঘটনায় একজন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বরিশাল জোন এর সদস্যরা। তবে চলমান অভিযানেও থেকে রসুলপুরের সোহাগীর মাদক (ইয়াবা) বেনাকেনা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে চলমান অভিযান থেকে নিজেকে বাঁচাতে সোহাগী ও তার জামাই রেজা ভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করছে। সরাসরি নিজেরা খুচরা বেচাকেনা বন্ধ রেখে কমলা ও তার জামাই আলামিন এর কাছে পাইকারী মাদক (ইয়াবা) বিক্রী করে। পরবর্তীতে আলামিনের নেতৃত্বে এই মাদক (ইয়াবা) খুচরা আকারে মাদকসেবীদের হাতে পৌছে দেয় আন্তর, শাকিল, মনু । অপর একটি সূএ বলছে সোহাগী ও তার জামাই রেজা কাছ থেকে মাদক (ইয়াবা) কিনে নগরীর পোর্টরোড ব্রীজের ঢালে অবস্থিত হোটেল জাহানারা এবং হোটেল অথিতি  তে বসে খুচরা আকারে বিক্রী করে কতিপয়  মাদক কারবারীরা, মাদকের পাশাপাশি এই দুই হোটেলের রাতভর চলে পতিতাবৃত্তি। সরজমিনে ক্রেতা সেঁজে রসুলপুর গিয়ে দেখা যায় ব্রীজ থেকে নামার পর একটু সামনে গিয়ে হাতের ডানে বরফ কলের রাস্তায় প্রকাশ্যে মাদক (ইয়াবা) বিক্রি করছে কিছু যুবক। সূুএটি আরো জানায় পর্দার অন্তরালে স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এসব অবৈধ ব্যবসার সুবিধা ভোগ করে যাচ্ছে। পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে নগরজুূড়ে যখন কোনঠাসা সকল মাদক কারবারি তখন নতুন পদ্ধতি অবলম্বনে সোহাগী এই মাদক ব্যবসার পরিকল্পনা কি রূখে  দিতে সক্ষম আইনশৃংখলা বাহিনী? একের পর এক অভিযানের পরও নতুন করে মাদক বিক্রির অভিযোগ সামনে আসায় প্রশ্ন উঠছে, কোথায় দুর্বলতা থেকে যাচ্ছে? শুধু বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করলেই কি রসুলপুরের মাদক নেটওয়ার্ক বন্ধ করা সম্ভব, নাকি এর পেছনে থাকা সরবরাহ, অর্থ ও যোগাযোগের চক্র শনাক্ত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ? চলতি বছরের ৯ মে সকালে বরিশাল নগরীর রসুলপুর বস্তিতে অভিযান চালায় জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে সোহাগী বেগম (২৮) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার স্বামী রেজাউল শিকদার রেজা (৩০) অভিযানের সময় পালিয়ে যান বলে জানানো হয়। ডিএনসির বরাত দিয়ে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, তাদের বসতঘর থেকে ১ হাজার ৫৮ পিস ইয়াবা, ১ কেজি ৫৮০ গ্রাম গাঁজা এবং ৬ লাখ ৯৯ হাজার ৮৩০ টাকা উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় সোহাগী ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। একটি বসতঘর থেকে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ মাদক ও প্রায় সাত লাখ টাকা উদ্ধারের ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রশ্ন হচ্ছে, ওই মামলার তদন্ত এখন কোথায়? উদ্ধার করা অর্থের উৎস কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে? মাদক কোথা থেকে এসেছিল? কার কাছে যাওয়ার কথা ছিল? এবং এই সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে আর কারা জড়িত? এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেলে শুধু একজন ব্যক্তিকে ঘিরে নয়, রসুলপুরের মাদক সরবরাহের কাঠামো সম্পর্কে একটি পরিষ্কার ধারণা পাওয়া সম্ভব। এ ঘটনায় পুলিশের করা মামলায় মাএ ৩ দিনের মধ্যে আদালত থেকে জামিন পান সোহাগী। এত বড় মাদকের চালানসহ আটক হওয়ার পরও কিভাবে তিনদিনে জামিন পেলো সোহাগী এটিও একটি বড় প্রশ্ন? তবে এ ঘটনাটিকে আরও জটিল করেছে ১৬ মে প্রকাশিত আরেকটি পুলিশের অভিযান-সংক্রান্ত তথ্য। পলাশপুর-মোহাম্মদপুর এলাকায় পুলিশের অভিযানে ২৭১ পিস ইয়াবাসহ চারজনকে আটকের খবর প্রকাশিত হয়। আটক ব্যক্তিদের একজন ছিলেন ‘সোহাগী’ , বয়স ২৭ বছর। তবে ৯ মে গ্রেপ্তার হওয়া সোহাগী বেগম  আবারো ১৬ মে আটক হওয়া স্পষ্টই বার্তা দেয় যে সোহাগী একা নয় তার পিছনে রয়েছে একটি বড় নেটওর্য়াক।
গত সেপ্টেম্বরেও রসুলপুরে সোহাগীকে আটক করার উদ্দেশ্যে অভিযান চালানোর দাবি উঠে আসে। ২৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একটি স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়, ২১ সেপ্টেম্বর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি দল রসুলপুরে অভিযান চালায়। পরে একই দিন সন্ধ্যায় বিএমপির পক্ষ থেকেও অভিযান চালানো হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু দুই দফা অভিযানেও সোহাগীকে পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়। এদিকে ২১ সেপ্টেম্বর কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ রসুলপুর বস্তিসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার কথা জানিয়েছে। পুলিশ বলেছে, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তি, সন্ত্রাসী ও সন্দেহভাজন অপরাধীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে তল্লাশি ও নজরদারি চালানো হয়। অর্থাৎ অভিযান যে হচ্ছে, তার প্রমাণ রয়েছে। প্রশ্ন এখন অভিযানের পরবর্তী ফলাফল নিয়ে। তাহলে সীমাবদ্ধতা কোথায়? আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানকে ব্যর্থ বলার আগে তাদের বাস্তব সীমাবদ্ধতাগুলোও বিবেচনায় নিতে হবে।
রসুলপুরের ভৌগোলিক অবস্থান ও ঘনবসতি দীর্ঘদিন ধরেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে আলোচিত। অতীতের একটি প্রতিবেদনে রসুলপুর বস্তিকে নগরীর মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এবং খাল পার হয়ে যেতে হয় এমন এলাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে পুলিশের অভিযানের সময় তালিকাভুক্ত মাদক কারবারিদের কাউকে পাওয়া যায়নি বলেও জানানো হয়েছিল।
এর অর্থ হলো, সেখানে অভিযান পরিচালনা করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে শুধু অপরাধীর অবস্থান শনাক্ত করলেই হয় না, দ্রুত প্রবেশ, এলাকা ঘেরাও, পালানোর পথ নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের মতো বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হবে। সেপ্টেম্বরের অভিযানে সোহাগীকে না পাওয়ার ঘটনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান সম্পর্কে আগে থেকেই কোনো তথ্য তার কাছে পৌঁছেছিল কি না। সোহাগী নিজস্ব নজরদারি বা স্থানীয় যোগাযোগের মাধ্যমে পুলিশের গতিবিধি বুঝতে পেরেছিলেন, নাকি কোনোভাবে অভিযানের তথ্য আগে থেকেই তার কাছে পৌঁছেছিল, তা তদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব নয়। অভিযানের গোপনীয়তা রক্ষা মাদকবিরোধী অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অভিযানের সময়, স্থান বা টিমের গতিবিধি আগে থেকে প্রকাশ হয়ে গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তি স্থান পরিবর্তনের সুযোগ পেতে পারেন। তাই অভিযানের ব্যর্থতাকে শুধু মাঠপর্যায়ের পুলিশের সক্ষমতার ঘাটতি হিসেবে দেখলে পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না। মাদক নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রের প্রধান বিশেষায়িত সংস্থা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নিজস্ব জনবল কাঠামোতেও ঘাটতি রয়েছে। ২০২৫ সালের জনবল পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অধিদপ্তরে মোট অনুমোদিত পদ ৩ হাজার ৫৯টি। এর বিপরীতে কর্মরত জনবল ২ হাজার ২৩৮ জন এবং শূন্য পদ ৮২১টি। অর্থাৎ অনুমোদিত পদের একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন পূরণ হয়নি। মাদক নিয়ন্ত্রণের মতো বিস্তৃত ও গোয়েন্দা-নির্ভর কাজে জনবল ঘাটতি সরাসরি মাঠপর্যায়ের নজরদারি, তথ্য যাচাই, দীর্ঘমেয়াদি অনুসরণ এবং একাধিক স্থানে একযোগে অভিযান পরিচালনার সক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
তবে শুধু জনবল ঘাটতিকেই রসুলপুরের পরিস্থিতির একমাত্র কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। স্থানীয় গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক, তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা, প্রযুক্তিগত নজরদারি, আন্তঃসংস্থার সমন্বয় এবং মামলার তদন্তের মানও সমান গুরুত্বপূর্ণ। মাদকবিরোধী অভিযানে একজনকে গ্রেপ্তার করা একটি ধাপ। কিন্তু প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে এরপর কী হচ্ছে তার ওপর। একজন সন্দেহভাজন মাদক কারবারির কাছ থেকে মাদক উদ্ধারের পর তদন্তে সাধারণত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে মাদকের উৎস, সরবরাহকারী, যোগাযোগের মাধ্যম, অর্থের লেনদেন এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের শনাক্ত করা। রসুলপুরের ক্ষেত্রেও প্রশ্ন হলো, ৯ মে বিপুল পরিমাণ মাদক ও নগদ অর্থ উদ্ধারের পর তদন্ত কতদূর এগিয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কি মাদকের উৎস শনাক্ত করতে পেরেছেন?রেজাউল শিকদার রেজার বর্তমান অবস্থান কী? সোহাগীর বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা রয়েছে কি না? উদ্ধার হওয়া প্রায় সাত লাখ টাকার আর্থিক উৎস তদন্ত করা হয়েছে কি না? মাদকের অর্থ কোথায় যেত, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া গেছে কি না? এসব প্রশ্নের উত্তর ছাড়া শুধু গ্রেপ্তার ও মাদক উদ্ধারের হিসাব দিয়ে রসুলপুরের মাদক সমস্যার গভীরে যাওয়া সম্ভব নয়।অভিযানের পর নজরদারি কতটা কার্যকর? আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অভিযান-পরবর্তী নজরদারি।
কোনো এলাকায় অভিযান চালিয়ে একজনকে গ্রেপ্তার করার পর যদি কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাসের মধ্যে একই ব্যক্তিকে ঘিরে আবার মাদক কারবারের অভিযোগ সামনে আসে, তাহলে তদন্ত করতে হবে অভিযোগটি সত্য কি না এবং হলে আগের অভিযানের পর কীভাবে কার্যক্রম আবার শুরু হলো। এখানে স্থানীয় সোর্সের তথ্য, এলাকাভিত্তিক নজরদারি, সন্দেহভাজনদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতের পরবর্তী অবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ। বরিশাল মহানগর পুলিশ নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। সেপ্টেম্বরেও এক অভিযানে নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে ২৯ জনকে গ্রেপ্তার এবং ৮৪ পিস ইয়াবাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য বিএমপি মিডিয়া সেলের বরাত দিয়ে বাসস প্রকাশ করেছে। অর্থাৎ অভিযান কমছে না। কিন্তু রসুলপুরের মতো নির্দিষ্ট এলাকায় মাদকের সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করতে হলে অভিযানকে দীর্ঘমেয়াদি গোয়েন্দা ও তদন্ত কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করার প্রয়োজন রয়েছে। সোহাগী বেগমকে ঘিরে প্রকাশিত তথ্যগুলো তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও অনুসন্ধানের পরবর্তী ধাপ হওয়া উচিত আরও বিস্তৃত। মাদক যদি সত্যিই তার মাধ্যমে বিক্রি হয়ে থাকে, তাহলে প্রশ্ন হবে, সরবরাহকারী কে? মাদক কোথা থেকে রসুলপুরে আসে? কারা তা পরিবহন করে? কারা খুচরা বিক্রি করে? বিক্রির অর্থ কোথায় যায়? একই সরবরাহকারী কি নগরীর অন্য এলাকাতেও মাদক পাঠায়? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর বের করা গেলে একজন ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে থাকা অভিযোগের পরিবর্তে একটি সম্ভাব্য নেটওয়ার্কের কাঠামো সামনে আসতে পারে। রসুলপুরে মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। ৯ মে বড় পরিমাণ ইয়াবা, গাঁজা ও নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনা তারই প্রমাণ। সেপ্টেম্বরেও রসুলপুরে পুলিশের অভিযান হয়েছে।
কিন্তু অভিযান যতই হোক, যদি মাদকের সরবরাহের উৎস, অর্থের প্রবাহ এবং স্থানীয় বিতরণব্যবস্থা শনাক্ত করা না যায়, তাহলে একটি অভিযান শেষ হওয়ার পর অন্য জায়গা থেকে আবার একই ব্যবসা শুরু হওয়ার সুযোগ থেকে যায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...

https://slotbet.online/