• শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম
দুদকের অনুসন্ধান, সম্পদের হিসাব ও গনমাধ্যমের বিরূদ্ধে আইনি নোটিশ—চাপে কি রাজউক কর্মকর্তা পলাশ শিকদার? দেশজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযানে ২২ লাখের বেশি ইয়াবা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১,৩৩০ জন। বরিশালে ডোপ টেস্টে ধরা দুই যুবকের কারাদণ্ড। বরিশালে ৪৪৭ পিস ই/য়া/বা সহ দুই সহোদর আটক। বরিশাল তরুণ সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের নতুন কমিটি গঠন, সভাপতি ওমর ফারুক ও সম্পাদক আল-আমিন গাজী। বরিশালে ২০৩৫ পিস ইয়াবাসহ সাবেক সেনাসদস্য ও তার স্ত্রী আটক। বরিশালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সশস্ত্র মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণ, আটক ১ বরিশালে চুরি হওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধার, আটক ৪ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাউনিয়া থানা পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, সন্দেহভাজন আটক ৪ চলমান মাদক বিরোধী অভিযানেও নিরবিচ্ছিন্ন রসুলপুরের সোহাগীর মাদক সরবরাহ। ধরন ও মাধ্যম পাল্টে নতুন পরিকল্পনা।

দুদকের অনুসন্ধান, সম্পদের হিসাব ও গনমাধ্যমের বিরূদ্ধে আইনি নোটিশ—চাপে কি রাজউক কর্মকর্তা পলাশ শিকদার?

প্রতিনিধি / ৪৯ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক | নাগরিক বরিশাল

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অথরাইজড অফিসার ও উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ-১ শাখার উপপরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) পলাশ শিকদারকে ঘিরে সম্পদের উৎস অনুসন্ধান, পূর্ববর্তী তদন্ত এবং গণমাধ্যমে আইনি নোটিশ পাঠানোর ঘটনায় নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা, অনুসন্ধানের অগ্রগতি এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের দাবির যথার্থতা নিয়ে উঠছে বিভিন্ন প্রশ্ন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মুরাদুজ্জামানের মাধ্যমে নাগরিক বরিশালের প্রকাশক বরাবর একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়।

এতে ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে অসত্য, মানহানিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবাদ ও ক্ষমা প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে। নোটিশে দাবি করা হয়, প্রতিবেদনের আগে পলাশ শিকদারের বক্তব্য নেওয়া হয়নি। তবে নাগরিক বরিশালের বক্তব্য, প্রতিবেদন তৈরির সময় তাঁর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মুঠোফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পলাশ শিকদারের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান চলছে। প্রকাশিত তথ্যে দাবি করা হয়েছে, ২০১৫ সালে চাকরিতে যোগদানের পর ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত তাঁর বেতন-ভাতা বাবদ আয় ছিল প্রায় ৩৪ লাখ ৩১ হাজার ৪৮১ টাকা। একই সময়ে তাঁর নামে ও বেনামে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার সম্পদ গড়ে ওঠার অভিযোগও রয়েছে। পিরোজপুরের নেছারাবাদে ডুপ্লেক্স বাড়ি, পরিবারের সদস্যদের নামে জমি ও বাড়ি, বসুন্ধরা এলাকায় প্লট এবং গাড়ি ব্যবহারের বিষয়ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ নথি ও দুদকের অনুসন্ধানের বর্তমান অবস্থা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগগুলো এখনো প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার সুযোগ নেই। আইনি নোটিশে দাবি করা হয়েছে, ২০২৪ সালে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে করা অভিযোগ তদন্তের পর ১৯ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে পলাশ শিকদারকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তবে ওই তদন্তের পরিধি এবং দুদকের অনুসন্ধানাধীন অভিযোগগুলোর সঙ্গে এর সম্পর্ক নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট তদন্ত প্রতিবেদন ও আদেশ যাচাই করা জরুরি।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বনাম আইনি পদক্ষেপ

নোটিশে ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবাদ ও ক্ষমা প্রকাশ না করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। নাগরিক বরিশালের বক্তব্য, অভিযোগের বিপরীতে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হলে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হবে। তবে শুধু আইনি নোটিশের কারণে ক্ষমা প্রকাশের প্রশ্নে সম্মতি দেওয়া হচ্ছে না।

এদিকে, পলাশ শিকদার নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন বলে প্রাপ্ত তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। তাঁর বক্তব্য ও আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকারকে গুরুত্ব দিয়েই অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।

মূল প্রশ্ন হলো—সম্পদের উৎস সম্পর্কে দুদকের অনুসন্ধানে কী তথ্য উঠে এসেছে, পূর্ববর্তী তদন্তে ঠিক কোন অভিযোগ নিষ্পত্তি হয়েছিল এবং এসব দাবির পক্ষে-বিপক্ষে কী প্রামাণ্য নথি রয়েছে?

এসব প্রশ্নের উত্তর নির্ধারিত হওয়া উচিত নিরপেক্ষ তদন্ত, যাচাইযোগ্য নথি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের ভিত্তিতে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে অপরাধী ঘোষণা করা যেমন অনুচিত, তেমনি জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রশ্নের জবাব নিশ্চিত করাও জরুরি। আইনি নোটিশ ব্যক্তির বিরূদ্ধে উঠা অভিযোগের বিপরীতে নিদোর্ষ প্রমানের জন্য অকাট্য দলিল নয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...

https://slotbet.online/