পারিবারিক বিরোধ ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের ইঙ্গিত!
নিজস্ব প্রতিবেদক : দক্ষিণাঞ্চলের জেলা বরিশাল-এর সদর উপজেলার এক ব্যবসায়ী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা স্থানীয় রাজনীতিতে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে সদর উপজেলার ১নং রায়পাশা কড়াপুর ইউনিয়নের চৌধুরী বাড়ি এলাকায়, বৌসেরহাট বাজারের অদূরে দুর্বৃত্তরা মো. দেলোয়ার চৌধুরীর ওপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করার পর পাশের একটি ক্ষেতে ফেলে রেখে যায় বলে ধারনা করা হচ্ছে। পরে ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বরিশাল এয়ারপোর্ট থানা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি চলছে এবং হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। এখনো কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করা হয়নি। প্রাথমিকভাবে দুটি কারনে হত্যাকান্ডটি সংঘটিত হতে পারে বলে ধারনা করছে নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা। স্থানীয় একাধিক সূত্র দাবি করেছে, নিহত দেলোয়ার চৌধুরীর সঙ্গে তার আপন ও চাচাতো ভাইদের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। সেই।বিরোধের জের ধরেই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে তাদের ধারণা। কয়েকজন আত্মীয়ের নাম সন্দেহভাজন হিসেবে স্থানীয়ভাবে উচ্চারিত হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
অন্যদিকে, ইউনিয়ন বিএনপি নেতাকর্মীদের একটি অংশ অভিযোগ করেছে, স্থানীয় আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট এক নেতার সঙ্গে দেলোয়ার চৌধুরীর রাজনৈতিক বিরোধ ছিল। তাদের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে চলমান দ্বন্দ্বও এই হত্যার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইউপি সদস্য ও স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. হাবিবুর রহমান মিন্টু বলেন, তারাবির নামাজে যাওয়ার পথে অটোরিকশা চালকদের কাছ থেকে একটি ক্ষেতে কিছু পড়ে থাকতে দেখার খবর পান। পরে খোঁজ নিয়ে সেখানে একটি মরদেহ পাওয়া যায় বলে নিশ্চিত হন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
বাংলাদেশে স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক ও পারিবারিক দ্বন্দ্বকে ঘিরে সহিংসতার ঘটনা নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক এই হত্যাকাণ্ড বরিশাল অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও গ্রামীণ রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তদন্তের ফলাফলই নির্ধারণ করবে এটি মূলত পারিবারিক বিরোধ, নাকি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার বহিঃপ্রকাশ।
https://slotbet.online/