• বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪২ অপরাহ্ন
শিরোনাম
বরিশালে ডিবির চেকপোস্টে ২ কেজি গাঁজাসহ দুইজন আটক বরিশালে অন্যের জমি ও দোকানঘর দখলে রাখতে পুলিশের নামে অপপ্রচার ভাড়াটিয়ার। বরিশালে নানা অভিযোগ বৃক্ষরোপণ নিয়ে দৌড়ঝাঁপ খবর নেই পরিচর্যার। কাউনিয়া থানা পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান, গাঁজাসহ ৫ জন গ্রেপ্তার। কাউনিয়া থানার গতিশীল কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পায়তারার অভিযোগ একটি মহলের বিরুদ্ধে বরিশালে মাদক নির্মূলে পুলিশ ও র‍্যাবের সমন্বিত অভিযানের দাবি: ধরা পড়ছে চুনোপুটি, অধরাই রাঘববোয়াল বরিশাল রূপাতলী হাউজিংয়ে রনির মাদক সাম্রাজ্য ও ‘হানি ট্র্যাপ’ সিন্ডিকেটের রহস্য উন্মোচন। মূ-খোশের আড়ালে মাদক জুয়া হানিট্রাপ সামাজিক অবক্ষয় ও অপরাধের দুষ্টচক্র রংপুরে একই পরিবারের চারজন হত্যাকাণ্ড আবারো প্রমান করে ইয়াবা এখন জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। বরিশাল কাউনিয়ায় দেশীয় অস্ত্র ও মাদকসহ গ্রেপ্তার ১

বরিশালে অন্যের জমি ও দোকানঘর দখলে রাখতে পুলিশের নামে অপপ্রচার ভাড়াটিয়ার।

প্রতিনিধি / ৫০ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: বরিশাল নগরীর চাঁদমারী এলাকায় ভাড়াচুক্তির শর্ত লঙ্ঘন, বকেয়া ভাড়া ও জামানত ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বেল্লাল নামের এক ভাড়াটিয়ার বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পাওনা টাকা পরিশোধ না করে উল্টো জমির মালিক ও আইনি প্রক্রিয়ায় সহায়তা করা পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালিয়েছেন ভাড়াটিয়া বেল্লাল । প্রাপ্ত নথিপত্র ও অনুসন্ধানে জানা যায়, বরিশাল নগরীর চাঁদমারী এলাকায় অহিদুল হক খান শেলির জমিতে গত এক যুগ ধরে ‘আল্লার দান’ নামের একটি খাবারের হোটেল পরিচালনা করে আসছেন বেল্লাল।শুরুতে মাসিক ১ হাজার ২০০ টাকা দোকানের ভাড়ায় ব্যবসা শুরু করলেও পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে ভাড়া বৃদ্ধি ও মাঝের বছর গুলোতে মালিক ও ভাড়াটিয়ার মধ্যে একাধিকবার ভাড়া পুনর্নির্ধারণ ও নতুন ভাড়ার চুক্তি হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর উভয় পক্ষের সর্বসম্মতিক্রমে প্রতি মাসে ২২ হাজার টাকা ভাড়া এবং আড়াই লাখ টাকা অগ্রিম জামানতের শর্তে একটি নতুন ভাড়াচুক্তি সম্পাদিত হয়। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী অগ্রিম জামানতের বকেয়া ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ না করেই ব্যবসা চালিয়ে যান বেল্লাল তারপরেও জমির মালিক তাদের সুযোগ দেয় ব্যবসায় করার। কিন্ত ভাড়াটিয়া চুক্তি সম্পাদনের তারিখ অর্থাৎ ০১/০৯/২০২৫ হইতে ৩০/০৪/২০২৬ মাসিক নির্ধারিত ভাড়া ২২০০০ টাকা যা সর্বমোট দাড়ায় ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকায় (পানির বিল ও বিদুৎ বিল সহ ) তাও পরিশোধন করেনি বেল্লাল। এ কারণে চলতি বছরের মে মাসে জমির মালিক অহিদুল হক খান আইনি নোটিশ পাঠান। একাধিক নোটিশ প্রদানের পরও বেল্লাল দোকান ঘর ও জায়গা না ছেড়ে মালিককে হুমকি এবং পাওনাবহির্ভূত অর্থ যা( চাঁদাবাজির সামিল যোগ্য অপরাধ) দাবী করে। শেষমেষ জমির মালিক অহিদুল হক খান শেলি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে কোতোয়ালী থানার সেকেন্ড অফিসার মনির উভয় পক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসেন। ৬ আগস্ট ২০২৬ ইং তারিখে থানাতেই অনুষ্ঠিত এক সমঝোতা বৈঠকে দেনা-পাওনার চূড়ান্ত হিসাব শেষে দেখা যায়, জামানত সমন্বয় করার পরও বেল্লালের কাছে মালিকের বকেয়া পাওনা থাকে ২ হাজার টাকা। বেল্লাল স্বেচ্ছায় ওই টাকা পরিশোধ করে জায়গা বুঝিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন এবং নোটিশে নিজ স্বাক্ষরের সম্মতি জানান।তবে থানা থেকে বের হওয়ার পরপরই অবস্থান বদল করেন বেল্লাল। স্থানীয় কিছু অসাধু ও সুবিধাভোগী চক্রের প্রভাবে তিনি পুলিশ ও বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে ‘জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া’ এবং ‘বোমা বা বিস্ফোরক মামলার হুমকি’ দেওয়ার কাল্পনিক অভিযোগ তোলেন। তবে এসব অভিযোগের স্বপক্ষে তিনি কোনো দাপ্তরিক প্রমাণ, অডিও-ভিডিও বা প্রত্যক্ষদর্শী উপস্থাপন করতে পারেননি। বেল্লালের এমন বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে নানা আলোচনা শুরু হয়। পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে নাগরীক বরিশালের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে। সরেজমিনে তদন্তকালে বেল্লালের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বললে তাদের বক্তব্যে ব্যাপক অসংঙ্গতি ধরা পড়ে। বেল্লালের ভাই দাবি করেন, জমিতে বাউন্ডারি ওয়াল ও দোকান নির্মাণে তাদের ৭-৮ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে এবং সেই টাকা না পাওয়া পর্যন্ত তারা দখল ছাড়বেন না। তবে অন্যের জমিতে অননুমোদিত স্থাপনা নির্মাণের আইনগত অধিকার বা খরচের কোনো ভাউচার বা প্রমাণ তারা দেখাতে ব্যর্থ হন। বেল্লাল এর মা বার বার বলতে থাকে সর্বশেষ ০১/০৯/২০২৫ এ করা ভাড়ার চুক্তি অনুযায়ী আমরা আরো এক বছর এখানে ব্যবসায় করার আইনগত বৈধতা রাখি কিন্ত জমির  মালিক শেলি আমাদের বিনা নোটিশে দোকানঘর ও স্থাপনা ছাড়তে বলছে। মিডিয়াকর্মীদের হাতে আসা ভাড়াচুক্তি, বকেয়া অর্থ, অগ্রিম টাকা, নোটিশ এবং আপোষনামাসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে দেখা যায় চুক্তিতে স্পষ্ট উল্লেখ করা আছে ২য় পক্ষ অর্থাৎ ভাড়াটিয়া বেল্লাল যদি প্রতিমাসের ভাড়া নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ না করে এবং পর পর তিন মাস ভাড়া প্রদানে ব্যার্থ হইলে চুক্তি বাতিল বলিয়া গন্য হইবে। এছাড়াও ভাড়াটিয়া চুক্তি একাধিক শর্ত বেল্লাল ভংঙ্গ করেছে এমন প্রমানও সংবাদকর্মীদের হাতে চলে আসে এবং বেল্লাল সম্পূর্ণ অবৈধ ভাবে উক্ত স্থানে জোরপূর্বক দোকানঘর পরিচালনা করছে তা স্পষ্ট প্রতিয়মান হয় । বেল্লালের পরিবারের পক্ষ তখন থেকে পূর্বের অবস্থান থেকে সরে এসে মালিকের সঙ্গে নতুন করে দোকান ভাড়ার চুক্তি করিয়ে দেয়ার অনুরোধ জানান সংবাদ কর্মীদের কাছে। একই সঙ্গে নিয়মিত ভাড়া পরিশোধের শর্তে দোকানটি পুনরায় ভাড়ায় পায়িয়ে দেয়ার জন্য অনুরোধ করতে থাকে। সচেতন নাগরিকদের মতে, বাড়ি বা স্থাপনার মালিক ও ভাড়াটিয়ার মধ্যে বিরোধ নতুন কোনো বিষয় নয়। তবে কোনো ভাড়াটিয়া যদি দীর্ঘদিন ভাড়া পরিশোধ না করে স্থাপনা দখলে রাখেন, তাহলে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত। সারাদেশের মতো বরিশালেও বিভিন্ন সময়ে কিছু অসাধু ভাড়াটিয়া স্থানীয় বিপদগামী ও তথাকথিত রাজনৈতিক নেতাদের প্রভাব খাঁটিয়ে বাড়িওয়ালাদের কোণঠাসা করে তোলা, চাঁদা দাবি এবং চরম হয়রানির মতো ঘটনা ঘটিয়েছে। এই অভিযোগের বিষয়টি যেন সেই অন্যায়েরই নতুন কোনো পুনরাবৃত্তি না হয়—এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ সচেতন নাগরিক সমাজের। একইসঙ্গে, যেসকল নিষ্ঠাবান পুলিশ কর্মকর্তা অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ভুক্তভোগী ও নির্যাতিতদের ন্যায়বিচার নিশ্চিতে আন্তরিকভাবে কাজ করছেন, মিথ্যা অপপ্রচারের মাধ্যমে তাদের যেন কোনোভাবেই বিতর্কিত বা হয়রানি করা না হয়, সে বিষয়েও সকলে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানাচ্ছে।

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...

https://slotbet.online/