• মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
বরিশাল নগরের হৃদপিণ্ডে ভর করছে মাদকের নেটওয়ার্ক: বস্তি থেকে সদর রোড ও হাসপাতাল রোডে স্থানান্তরিত হচ্ছে ‘মাদক হটস্পট’! চট্টগ্রামে নালায় মিলল ১,৩৫০ রাউন্ড বুলেট : রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় মারাত্মক হুমকির আশঙ্কা! আইনের চোখে ধুলো দিয়ে পলাতক প্রভাবশালী দুই ভাই: চেক জালিয়াতির মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত তুহিনের খুঁটির জোর কোথায়? বরিশালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অনন্য এক অধ্যায়ের অবসান : পুলিশ থেকে র‍্যাবে চৌকস পরিদর্শক ছগির হোসেন। বরিশাল আগৈলঝাড়ায় গুজবকে কেন্দ্র করে থানায় হামলার ঘটনায় ১৮ জন গ্রেফতার। বরিশালে আবাসন ব্যবসায়ীর প্রতিষ্ঠানের ঢুকে এমডি কে নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত লিটুসহ গ্রেপ্তার ২ আলোর দুই ফেরিওয়ালা: পাহাড়ের দুর্গমতা আর সমতলে মাদকের আঁধার ভেঙে সমাজ গড়ার দুই অকুতোভয় বন্ধুর গল্প তেহরানে খামেনির স্মরণকালের সেরা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া: শোকের সাগরে ইরান বহু নাটকীয়তার পর সাভারের বহিষ্কৃত ছাএদল নেতা সামির ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার সাভারে জোড়া মামলায় ‘পিস্তল মানিক’ গ্রেপ্তার, প্রধান আসামি সামির এখনও অধরা

বরিশাল নগরের হৃদপিণ্ডে ভর করছে মাদকের নেটওয়ার্ক: বস্তি থেকে সদর রোড ও হাসপাতাল রোডে স্থানান্তরিত হচ্ছে ‘মাদক হটস্পট’!

প্রতিনিধি / ২৯ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬

বিশেষ প্রতিবেদক, বরিশাল | প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬

​বরিশাল: বরিশাল নগরীর রূপাতলী, রসুলপুর, পলাশপুর কিংবা কেডিসি বস্তি অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান ও কঠোর তৎপরতায় কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল মাদক চক্রগুলো। অনেক চিহ্নিত গডফাদার ও খুচরা ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার হয়েছে, কেউ কেউ সাজা ভোগ কিংবা জামিনে মুক্ত হয়ে ফিরেছে স্বাভাবিক জীবনে। কিন্তু এই দৃশ্যমান স্বস্তির অন্তরালে জন্ম নিয়েছে এক নতুন উদ্বেগ। বস্তি এলাকাগুলোতে পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থার সার্বক্ষণিক নজরদারির কারণে কৌশলে নিজেদের আস্তানা স্থানান্তরিত করেছে মাদক ব্যবসায়ীরা। বস্তির গণ্ডি পেরিয়ে এদের ঘাঁটি এখন থিতু হয়েছে বরিশাল নগরীর হৃদপিণ্ড হিসেবে পরিচিত প্রধান প্রধান বাণিজ্যিক ও বসতি এলাকাগুলোতে। ​সম্প্রতি পরিচালিত অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে মাদক চক্রগুলো তাদের বিক্রির রুট ও ‘হটস্পট’ বদলে ফেলেছে। বর্তমানে নগরীর হাসপাতাল রোড, ফকিরবাড়ি, কালিবাড়ি রোড থেকে ফকিরবাড়ি রোড যাওয়ার বাইপাস সড়ক, কারিকর বিড়ি ফ্যাক্টরির পিছনের রাস্তা, সাবেক সোনালী হলের মোড়, খোকার গলি, বিএম স্কুলের পাশের নার্সিং সেন্টার এলাকা, ঝাউতলা ২য় গলির বিপরীত পাশের গলি, জেলে বাড়ির পোল সংলগ্ন গুপ্ত কর্নার মোড়, কালিবাড়ির সমাজ কল্যাণ গলি এবং সদর রোডের একাংশ এখন মাদকের নতুন এবং প্রধান ক্রয়-বিক্রির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। ​বিগত সময়ে প্রকাশিত একাধিক স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকার সংবাদ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বরিশাল মেট্রোপলিটন এলাকার কেডিসি ও পলাশপুর বস্তি দীর্ঘদিন ধরেই মাদকের ট্রানজিট ও বিক্রেতাদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত সাঁড়াশি অভিযানে এসব এলাকা কিছুটা মাদকমুক্ত হলেও অপরাধীদের কৌশল পরিবর্তনের ফলে নতুন নতুন আবাসিক এলাকা ঝুঁকিতে পড়ছে। এসব স্থানগুলোতে সক্রিয় থাকা স্থানীয় মাদক কারবারিদের সাথে এখন হাত মিলিয়ে বসতি গড়ছে অন্য এলাকা থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়া অপরাধীরা। আবার ওনেক ক্ষেএে দেখা যাচ্ছে এসব আবাসিক ও বানিজ্যিক এলাকার কিছু তথাকথিত সুশিল ও স্থানীয়রা নিজের বাসাবাড়িকেই মাদক সেবন ও বিক্রির স্থান করে দিচ্ছেন অন্য এলাকা থেকে আগত মাদক ব্যবসায়ীদের বিনিময়ে প্রতিদিন হিসেবে নির্দিষ্ট অংকের একটি আর্থিক সুবিধা ভোগ করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখে ধুলো দিতে এরা নিজেদের মাদক কারবার নির্দিষ্ট কিছু গোপন গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখছে। এসব স্থানে প্রধান গ্রাহক হিসেবে টার্গেট করা হচ্ছে নির্দিষ্ট কিছু সচ্ছল পরিবারের তরুণ ও কিশোরদের, যার ফলে বাহ্যিকভাবে অপরাধটি ধরা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। শহরের হৃদপিণ্ডজুড়ে সক্রিয় থাকা বেশ কয়েকজন মাদক কারবারির নাম উঠে এসেছে গভীর অনুসন্ধানে। যাদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ ও নজরদারি বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে, এদের মধ্যে রয়েছে ​হাসপাতাল রোড ও অমৃত লাল দে কলেজ এলাকার: মান্না, কালু ও তার ভাই নন্দ, নয়ন এবং সোহেল।
​গুপ্ত কর্নার ও জেলে বাড়ি মোড় এলাকার: পংকজ হরফে পংকা এবং জেলে বাড়ির মোড় এলাকার ইমরান।
​ল’ কলেজ ও বিএম স্কুল সংলগ্ন এলাকার সোহাগ এবং বিএম স্কুলের কইতর রানা।
​সদর রোড অঞ্চলের: আকাশ, শিশির, মুন্না ও সুজন। ​এই চিহ্নিত চক্রগুলো দিন দিন তাদের প্রভাববলয় বড় করছে, যা নগরীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও তরুণ সমাজের ভবিষ্যতের জন্য এক মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
​এ বিষয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান,
​মাদকের বিরুদ্ধে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান চলমান এবং তদন্ত সাপেক্ষে এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

​অন্যদিকে, এই নতুন নেটওয়ার্ক ও স্থানান্তরের বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) বরিশাল কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, নতুন এই মাদক নেটওয়ার্ক এর বিষয়ে আমাদের কাছে তথ্য আগ থেকেই ছিল এবং এদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে, পাশাপাশি এদের মধ্যে কিছু অপরাধি রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে মাদক ব্যবসায় চালিয়ে যাবার চেষ্টা করছে তবে অপরাধির যে পরিচয় থাকুক না কেন তাকে আইনের আওতায় আনা হবেই।
​নগরবাসীর মতে, কেবল বস্তি এলাকায় সীমাবদ্ধ না থেকে নতুন করে গড়ে ওঠা এসব হটস্পটে ছদ্মবেশী নজরদারি ও সাঁড়াশি অভিযান না চালালে নগরীর প্রাণকেন্দ্রগুলো অপরাধীদের স্থায়ী অভয়ারণ্যে পরিণত হতে বেশি সময় লাগবে না।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...

https://slotbet.online/