নিয়াজ মোহাম্মদ : বরিশাল নগরীতে নিকাহ্ রেজিস্ট্রেশন ঘিরে বালাম জালিয়াতি ও ঘুষ বাণিজ্যের একটি চক্রের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন নিকাহ্ রেজিস্ট্রার সমিতির সাধারণ সম্পাদক অলি উল্লাহ্ এবং কাজী ফেরদৌস নামে এক নিকাহ্ রেজিস্ট্রার। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জাল বালাম তৈরি,
কন্ট্রাক্ট ম্যারেজের কাগজপত্র প্রস্তুত এবং কাগজে ত্রুটি দেখিয়ে বিদেশগামী প্রার্থীদের কাছ থেকে ফাইলপ্রতি ২০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, ঘুষের বিনিময়ে জাল কাগজপত্রও অনুমোদন করিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের সামনে নগদ অর্থের বিনিময়ে একটি জাল বালামের ম্যারেজ সার্টিফিকেট ‘পাশ’ করিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয় বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে নগদ অর্থ দেওয়ার পর রবিবার ওই ফাইলটি অনুমোদন হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটির ভিডিও ও ফোনালাপের রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
সোমবার এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নিকাহ্ রেজিস্ট্রার দাবি করেন, বর্তমান জেলা রেজিস্ট্রার মোহসিন মিয়া এই চক্রের সঙ্গে জড়িত। তার ভাষ্য, “পুরো সিস্টেমই তৈরি করা হয়েছে ঘুষ আদায়ের জন্য। প্রতিবাদ করলে লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দেওয়া হয়।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কাজী ফেরদৌস ঘুষের বিনিময়ে ফাইল অনুমোদনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে অর্থ ফেরতের বিষয়ে তিনি সমিতির সাধারণ সম্পাদক অলির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। অন্যদিকে অলি উল্লাহ্ অর্থ গ্রহণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ভিডিও ও ফোন রেকর্ড সম্পর্কে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
এ ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুর ঘোষণা পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত নিয়ে পরবর্তী পর্বে আরও তথ্য প্রকাশ করা হবে।
https://slotbet.online/