নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার শেরশাহ বাংলা বাজার এলাকায় নালা পরিষ্কারের সময় পরিত্যক্ত অবস্থায় বস্তাভর্তি ১ হাজার ৩৫০ রাউন্ড তাজা বুলেট উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা রুটিন পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানোর সময় নালায় ভাসমান একটি বস্তায় বুলেট দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশে খবর দেন।
খবর পাওয়ার পরপরই বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বুলেটের বস্তাটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়। বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, উদ্ধারকৃত বুলেটের মধ্যে ১২০টি বড় আকারের এবং ১ হাজার ২৩০টি ছোট আকারের বুলেট রয়েছে। সব মিলিয়ে বুলেটগুলোর মোট ওজন প্রায় ১৬ কেজি। বুলেটগুলো ঠিক কোন ধরনের অস্ত্রের এবং কারা, কী উদ্দেশ্যে এগুলো নালায় ফেলে গেছে তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঘটনার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে। নালা পরিষ্কারের সময় এত বিপুল পরিমাণ তাজা বুলেট উদ্ধারের ঘটনাটি সমগ্র নগরজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পরিত্যক্ত অবস্থায় এভাবে গোলাবারুদ উদ্ধার হওয়া কেবল সাধারণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির ইঙ্গিত দেয় না, বরং যেকোনো দেশের জাতীয় ও রাজনৈতিক নিরাপত্তার জন্য তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এরকম বিপুলসংখ্যক তাজা বুলেটের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে দেশের অভ্যন্তরে অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার ঘটেছে এবং এর পেছনে কোনো সংগঠিত অপরাধী বা চোরাচালানকারী চক্র জড়িত থাকতে পারে। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বা সাধারণ জনগণের ওপর বড় ধরনের কোনো নাশকতামূলক হামলা কিংবা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড সংঘটিত করার পরিকল্পনা থেকে এসব গোলাবারুদ মজুদ করা হয়ে থাকতে পারে, যা সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে। নির্বাচন বা যেকোনো স্পর্শকাতর রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে অগণতান্ত্রিক ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো এসব গোলাবারুদ ব্যবহার করে সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে। এছারাও রাজপথে সশস্ত্র শক্তির উপস্থিতি সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি করতে এবং স্বাধীন ও স্বাভাবিক রাজনৈতিক চর্চা বিঘ্নিত করতেও এর ব্যবহার হতে পারে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বুলেটগুলোর ক্যালিবার ও অস্ত্রের ধরন নিশ্চিত করতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া কারা বা কোন গোষ্ঠী এগুলো ওই এলাকায় ফেলে রেখে গেছে, তাদের খুঁজে বের করতে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহসহ গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এ বিষয়ে একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং অপরাধীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।
https://slotbet.online/