নিয়াজ শেখ,বরিশাল:১০ জুলাই, ২০২৬
বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় হেফাজতে থাকা এক আসামির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ভুল বোঝাবুঝি এবং তার জেরে ঘটে যাওয়া হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে পুলিশ। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ইতিমধ্যে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় ৪৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় তিনশ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আজ শুক্রবার (১০ জুলাই) আগৈলঝাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওমর ফারুক বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলা পরবর্তী তাৎক্ষণিক অভিযানে এজাহারভুক্ত ১৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। থানা সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে চুরির সুনির্দিষ্ট মামলায় মো. রিয়াজ ফকির (২৬) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেন এসআই মাসুদুর রহমান। ওই দিন রাতে থানা হাজতে থাকাকালীন আসামি রিয়াজ নিজেই আকস্মিকভাবে হাজতের লোহার গ্রিলে আঘাত করে আত্মপীড়নের চেষ্টা চালান। এতে তিনি মেঝেতে লুটিয়ে পড়লে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা।তাকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরবর্তী সময়ে উন্নত চিকিৎসার স্বার্থে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয় দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে রিয়াজের পিতা মো. সিদ্দিক ফকির বরিশাল থেকে এলাকায় ফিরে প্রকৃত তথ্য যাচাই না করেই অসাবধানতাবশত তার ছেলের মৃত্যুর খবর প্রচার করেন। এই বিভ্রান্তিকর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে স্থানীয় একটি অংশ আবেগতাড়িত হয়ে লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে থানা চত্বরে জড়ো হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত হয়ে পড়লে তারা থানার মূল ফটক অতিক্রম করে ডিউটি অফিসারের কক্ষে প্রবেশ করে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এ সময় পরিস্থিতি শান্ত করার ও বোঝানোর চেষ্টা করতে গিয়ে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. আব্দুল হালিমসহ কনস্টেবল মো. আল আমিন, মো. লিমন হোসেন ফরহাদ এবং মো. ফরহাদ হোসেন আহত হন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ধৈর্য ও পেশাদারিত্বের সাথে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় এএসআই আব্দুল হালিমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরবর্তীতে থানায় হামলা ও ভাংচুরের ভিডিও গনমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরলে বিষয়টি নিয়ে সারাদেশ জুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার এই ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় পুলিশ উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশী গ্রামের ১৮ জন বাসিন্দাকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন:
সিদ্দিক ফকির (৬০) ও মান্নান ফকির (৬৫)
তানজিলা বেগম (২৬) ও রিফাত ফকির (১৮)
নাঈম ফকির (১৮), রাজু হাওলাদার (১৮) ও মো. সবুজ ফকির (৩২)
নাছিমা ওরফে রেখা বেগম (৪৫), মমতাজ বেগম (৬০) ও হাবিবুর রহমান (৪৫)
গিয়াস উদ্দিন ফকির (৬২), মনোয়ার বেগম (৫০) ও ময়না বেগম (৪৮)
আসমা বেগম (৩৪), নাজমা আক্তার (৪০), ঝুমুর আক্তার (৩৬), শারমিন আক্তার (২৫) এবং মোসা. তাহমিনা (৫০)।
আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান জানান, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমরা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি এড়াতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। এজাহারভুক্ত ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এলাকার সার্বিক শান্তি বজায় রাখতে এবং বাকিদের অবস্থান নিশ্চিত করতে পুলিশের নিয়মতান্ত্রিক অভিযান চলমান রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে সাধারণ জনগণকে যে কোনো সংবেদনশীল বিষয়ে গুজবে কান না দিয়ে তথ্য যাচাই করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। বর্তমানে ফুল্লশী গ্রাম ও থানা সংলগ্ন এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
https://slotbet.online/