• শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম
বরিশাল পলাশপুর এলাকায় বাবুর সাহসিকতায় মাদকের বিরুদ্ধে তরুণদের দৃষ্টান্তমূলক প্রতিরোধ গঠন। ব্যক্তিগত সুদের চুক্তি বা চেকের আইনি বৈধতা নেই: জেনে নিন বৈধ ক্ষুদ্রঋণের নিয়ম সিএমপি মেট্রোপলিটন পুলিশে ব্যাপক রদবদল। বরিশালে কোতোয়ালি থানা পুলিশের অভিযান: নারীসহ ৫ মাদক ব্যবসায়ী আটক, ইয়াবা ও মোটরসাইকেল উদ্ধার ব্যাংক হিসাবে টিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব: নেতিবাচক অর্থনৈতিক প্রভাব ও উত্তরণের উপায় ৫ জেলায় নতুন এসপি, পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ১২ কর্মকর্তাকে বদলি বরিশাল কাউনিয়ায় ২০০ পিস ইয়াবাসহ এক মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার। জিমেইল হ্যাক করে ব্যাংক ও এমএফএস থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া চক্রের মূলহোতাসহ গ্রেপ্তার ২ সিআইডির নতুন ভারপ্রাপ্ত প্রধান ডিআইজি আলি আকবর খান। ওসমান হাদী হত্যাকান্ড নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিস্ফোরক মন্তব্য!

বরিশাল পলাশপুর এলাকায় বাবুর সাহসিকতায় মাদকের বিরুদ্ধে তরুণদের দৃষ্টান্তমূলক প্রতিরোধ গঠন।

প্রতিনিধি / ৩১ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬

মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী এই কন্ঠ চেপে ধরতে একটি মহলের পায়তারা, নাকি  শুধুুই  সিন্ডিকেটের হাতবদল ! কি বলছে দেশের আইন, আর কি হচ্ছে বাস্তবতা?

বিশেষ প্রতিবেদক, বরিশাল
২৭ জুন, ২০২৬
​বরিশাল: “হয় মাদক ছাড়ো, না হয় পলাশপুর ছাড়ো”— এই স্লোগানকে সামনে রেখে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন ৫নং পলাশপুর এলাকায় একদল তরুণ স্বঘোষিত ভাবে মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় । দীর্ঘদিন অবহেলিত ও অপরাধের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত এই চরাঞ্চলে তরুণদের এই তৎপরতা একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের মনে কিছুটা স্বস্তি এনেছে, অন্যদিকে তৈরি করেছে নতুন এক আইনি ও সামাজিক বিতর্ক। ​অনুসন্ধানে জানা যায়, বরিশাল কাউনিয়া থানার আওতাধীন এই প্রত্যন্ত এলাকায় অতীতে মাদক ব্যবসার শিকড় এতটাই গভীরে ছিল যে, সাধারণ ও শিক্ষিত নাগরিকরা একপ্রকার জিম্মি হয়ে দিন কাটাতেন। এমনকি অতীতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাকেও মাদকসহ র‍্যাব কর্তৃক গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটেছে এখানে। ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কাউনিয়া থানায় পবিত্র কুমার হালদার নামে একজন কর্মকর্তা যোগ দেন। এরপরই ৫নং পলাশপুরের স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বাবুর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় একদল তরুণ মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে মাঠে নামে। একটা বিশাল জনগোষ্ঠীকে কখনো কাউন্সিলিং, কখোনো বৈধ উপায়ে আয়ের ব্যবস্থা, কখোনো মাদক ব্যবসায়ীদের পুলিশে ধরিয়ে দেয়া, আর তাতেও মাদক ব্যবসা না ছাড়লে সামাজিকভাবে ঐসকল মাদক ব্যবসায়ীদের বয়কোট এবং এলাকা থেকে স্থায়ীভাবে বিতারিত করার পদক্ষেপ গ্রহনে করে পুরো নগড় জুড়ে প্রশংসায় ভাসছে এই তরুনদের পুরো দলটি। আর এখানেই উঠেছে বড় প্রশ্ন—
আইন কি একজন political নেতা বা সাধারণ তরুণদের এই অধিকার দেয়?
আইনি বিশ্লেষণ: বাবু বা তরুণদের কি কাউকে উচ্ছেদ বা বয়কট করার এখতিয়ার আছে?

​বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, কোনো অপরাধী (হোক সে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী) সমাজ বা দেশের যত বড় ক্ষতিই করুক না কেন, আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য ছাড়া কোনো সাধারণ নাগরিক বা রাজনৈতিক নেতার কাউকে এলাকা থেকে উচ্ছেদ, সামাজিকভাবে বয়কট বা হেনস্থা করার কোনো আইনগত এখতিয়ার নেই।

​আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ বাংলাদেশের সংবিধানে বা দণ্ডবিধিতে রাখা হয়নি।

​১. কেন উচ্ছেদ বা বয়কট বেআইনি?

​সংবিধানের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন: বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রত্যেক নাগরিকের বাংলাদেশের সর্বত্র অবাধ চলাফেরা এবং যেকোনো স্থানে বসবাসের অধিকার রয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কাউকে জোরপূর্বক তার বাসস্থান থেকে বিতাড়িত করতে পারে না।

​বিচারিক ক্ষমতার অপব্যবহার: কাউকে অপরাধী সাব্যস্ত করা এবং শাস্তি (যেমন দেশ বা এলাকা করা) দেওয়ার একক এখতিয়ার কেবল আদালতের।

​ব্যতিক্রম (নাগরিকের অধিকার): ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC) এর ৫৯ ধারা অনুযায়ী, কোনো সাধারণ নাগরিকের সামনে যদি কোনো জামিন অযোগ্য এবং আমলযোগ্য অপরাধ ঘটে, তবে তিনি অপরাধীকে আটক করতে পারেন। তবে শর্ত হলো, আটক করার পর বিলম্ব না করে তাকে নিকটস্থ পুলিশ অফিসার বা থানায় সোপর্দ করতে হবে। নিজে কোনো শাস্তি দেওয়া যাবে না। ​যদি তথাকথিত মাদকবিরোধী অভিযানের নামে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বাবু বা তার অনুসারী তরুণরা কাউকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ, ঘরবাড়ি ভাঙচুর বা হেনস্থা করে, তবে ভুক্তভোগী ব্যক্তি বা রাষ্ট্র তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের দণ্ডবিধি (Penal Code, 1860) অনুযায়ী নিম্নলিখিত ধারায় মামলা করতে পারেন।
​যদি প্রমাণিত হয় যে, মাদক দমনের আড়ালে বাবু বা তার দল কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে অন্যায়ভাবে হেনস্থা বা উচ্ছেদ করেছে, তবে ভুক্তভোগী কাউনিয়া থানায় এজাহার (FIR) দায়ের করতে পারেন অথবা সরাসরি আদালতে সিআর (CR) মামলা করতে পারেন।

প্রতিবেদকের মন্তব্য: ​পলাশপুরের মতো একটি অবহেলিত এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে বাবু’র নেতৃত্ব ও তরুণদের জেগে ওঠা নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক এবং প্রশংসনীয় লক্ষণ। কাউনিয়া থানার বর্তমান সৎ অফিসারের উপস্থিতিও এই এলাকায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার বড় সুযোগ তৈরি করেছে। তবে, “অন্ধকার দূর করতে গিয়ে নিজে আইন লঙ্ঘন করা” দীর্ঘমেয়াদে কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। ​মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া এবং আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের শাস্তি নিশ্চিত করাই বাবু এবং স্থানীয় তরুণদের দায়িত্ব হওয়া উচিত। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কাউকে এলাকাছাড়া করার এই প্রবণতা যদি আইনি কাঠামোর মধ্যে আনা না হয়, তবে সাধারণ মানুষের আশঙ্কাই সত্যি হবে— এটি কেবলই “সিন্ডিকেটের হাতবদল” হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নেবে, যা দীর্ঘমেয়াদে সমাজের জন্য আরও বড় বিপর্যয় ডেকে আনবে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য : সরোজমিনে পুরো এলাকায় দীর্ঘদিন অনুসন্ধান করে বাস্তব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। পরবর্তী পর্বে পলাশপুরের ছোট-বড় শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী, এবং এদের শেল্টারদাতাদের নাম ও কিভাবে এলাকাটি একটি মাদকের সম্রাজ্যে পরিনত হয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য একটি বিশেষ প্রতিবেদন আকারে প্রকাশিত হবে । সে পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকুন…….

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...

https://slotbet.online/