• রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ইউএনও হাত ধরে আলোর পথে উজিরপুরে বাবার মুখে রুটি তুলে দেওয়া সেই ছোট্ট তুবা। এলপিজির তীব্র সংকট, ১২ কেজির সিলিন্ডার ২১০০ টাকা। বাবাকে মারধর, চা-রুটি হাতে ৯ বছরের মেয়ের ছুটে আসা। বিএমপি ডিবির অভিযানে ১,০০০ পিস কথিত ইয়াবাসহ আটক ১ বরিশালে সোহাগীকে ধরতে ব্যার্থ অভিযান : রসুলপুরে মাদক সিন্ডিকেটের ‘গা-ঢাকা’ কৌশল। বরিশালে মাদকবিরোধী অভিযানের আড়ালে সক্রিয় রসুলপুরের সোহাগী সিন্ডিকেট। গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার’র গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়’র প্রতিমন্ত্রী আহম্মেদ সোহেল মন্জুর সুমন এর বরিশাল শুভাগমনে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম বরিশাল জেলা দক্ষিন ও মহানগর কমিটির নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও ফুলেল শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। এ-সময় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের বরিশাল জেলা দক্ষিন আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান মিল্টন, মহানগর আহবায়ক মো. জুয়েল খান সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। বরিশাল কাউনিয়া থানার বিশেষ অভিযানে ১৫ দিনে ৯৩ জন আটক। বরিশালে ভাড়া বাসা থেকে আইনজীবি সহকারীর লাশ উদ্ধার। মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর কাউনিয়া থানা।

সাভারের রাজাসন-চাঁপাইনে মাদক সম্রাট সামির ও তার বাহিনীর ত্রাসের রাজত্ব: জিম্মি এলাকাবাসী ও অপ-সাংবাদিকতার নেপথ্যের এক কাহিনি!

প্রতিনিধি / ২২০ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি : সাভার: ঢাকার সাভার পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ড এবং সাভার সদর ইউনিয়নের চাঁপাইন, দেওগাঁও ও রাজাসন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক, কিশোর গ্যাং পরিচালনা, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে এক ভয়াবহ অপরাধ সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে স্থানীয় মতিউর রহমানের দুই ছেলে মাহাবুব হোসেন সামির ওরফে ‘ফেন্সি সামির’ এবং মো. হৃদয় হোসেন ওরফে ‘ফর্মা হৃদয়’। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাভার পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সেলিম মিয়া এবং উপজেলা চেয়ারম্যান মনজুরুল আলম রাজীবের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত এই পরিবারটি এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের আগে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের বাড়িতে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। আবার ৫ই আগস্টের পর কিছুদিন গা ঢাকা দিলেও বর্তমানে স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতার সাথে সমঝোতা করে তারা এলাকায় ফিরে এসে পুনরায় প্রকাশ্যেই মাদকের সিন্ডিকেট চালু করেছে। ​অনুসন্ধানে জানা যায়, সাভার এলাকায় এই পরিবারের বিরুদ্ধে চারটি হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে, যার মধ্যে তিনটিই মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে থানা পর্যন্ত পৌঁছানোর আগেই ধামাচাপা দেওয়া হয়। আলোচিত সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকার রুবেল হত্যা মামলায় এই দুই ভাই আসামি হলেও বর্তমানে তারা উচ্চ আদালত থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে মুক্ত রয়েছে। জামিনে বেরিয়ে আসার পর তাদের অপরাধের মাত্রা আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাটের শিকার হতে হচ্ছে। ​সম্প্রতি এই চক্রটির ক্ষোভের মুখে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী শামীম হোসেন। সামির ও তার ভাই হৃদয় ব্যবসায়ী শামীমের কাছে বড় অঙ্কের চাঁদা দাবি করলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সামির বাহিনী প্রথমে কয়েকজন সাংবাদিককে ভুল তথ্য দিয়ে শামীমকে মাদক ব্যবসায়ী সাজিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালায়। তাতেও সফল না হয়ে তারা শামীমকে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর পরিকল্পনা করে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিচক্ষণতায় গত ১৩ এপ্রিল রাতে পশ্চিম রাজাসন এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ সামিরের ভাই ফর্মা হৃদয় র্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়। ​ভাইয়ের গ্রেফতারের পর সামির আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং হৃদয়ের জামিনের খরচ জোগানোর অজুহাতে শামীমের কাছে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। শামীম পুনরায় চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে সামিরের পক্ষ নেন এস এ টিভির সাভার প্রতিনিধি সাদ্দাম হোসেন। এই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ সংগঠনের সাথে সংশ্লিষ্টতা, ব্ল্যাকমেইলিং এবং অর্থনৈতিক সুবিধা গ্রহণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। তিনি সাংবাদিকতার প্রভাব খাটিয়ে শামীমকে সাভারের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী আখ্যা দিয়ে একাধিক সংবাদ প্রকাশ করেন এবং প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি করেন। একপর্যায়ে সংবাদ প্রকাশ বন্ধ করার শর্তে সাদ্দাম হোসেন শামীমের কাছে ৬ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন। ​চাঁদার টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে গত ২২ মে সকালে এস এ টিভির সাদ্দাম হোসেন এবং দেশ টিভির ঢাকা স্টাফ তাইফুর রহমান তুহিন তাদের ক্যামেরাম্যান ও গাড়িচালকসহ শামীমের গ্যারেজে যান। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই সামিরের কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত হয়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র কথাকাটাকাটি ও একপর্যায়ে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়, যাতে কথিত সাংবাদিক সাদ্দাম ও তাইফুর রহমান তুহিনসহ উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন। ঘটনার বেগতিক দেখে গ্যারেজ মালিক শামীম নিজেই জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে পুলিশকে বিষয়টি জানান। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে চারজনকে আটক করে এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠায়। পরবর্তীতে এই ঘটনায় মামলা দায়ের করে আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়। এলাকার সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করছেন, পুরো ঘটনাটি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাংয়ের আধিপত্য এবং অপ-সাংবাদিকতার এক নোংরা ও জটিল সমীকরণ। পরবর্তী পর্বে থাকছে সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় কে হলো মামলার বাদী? আসামী করা হলো কাদের? এবং মামলায় মিথ্যে আসামী করে কারা শামীমের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে লুটপাট করে? বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন নাগরিক বরিশালের ফেসবুক পেইজ…….

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...

https://slotbet.online/