• শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ০১:১৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
বহু নাটকীয়তার পর সাভারের বহিষ্কৃত ছাএদল নেতা সামির ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার সাভারে জোড়া মামলায় ‘পিস্তল মানিক’ গ্রেপ্তার, প্রধান আসামি সামির এখনও অধরা *পরকীয়া; একটি ভয়ানক সামাজিক ব্যাধি* ৫ নম্বর ওয়ার্ড সচিব জসিমের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ! বরিশাল পলাশপুর এলাকায় বাবুর সাহসিকতায় মাদকের বিরুদ্ধে তরুণদের দৃষ্টান্তমূলক প্রতিরোধ গঠন। ব্যক্তিগত সুদের চুক্তি বা চেকের আইনি বৈধতা নেই: জেনে নিন বৈধ ক্ষুদ্রঋণের নিয়ম সিএমপি মেট্রোপলিটন পুলিশে ব্যাপক রদবদল। বরিশালে কোতোয়ালি থানা পুলিশের অভিযান: নারীসহ ৫ মাদক ব্যবসায়ী আটক, ইয়াবা ও মোটরসাইকেল উদ্ধার ব্যাংক হিসাবে টিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব: নেতিবাচক অর্থনৈতিক প্রভাব ও উত্তরণের উপায় ৫ জেলায় নতুন এসপি, পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ১২ কর্মকর্তাকে বদলি

নিরাপদ খাদ্য আইনের নীতিমালা মানছে না বরিশাল শহরের অধিকাংশ রেস্তরাঁ।

প্রতিনিধি / ১৩৩ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬

সুমাইয়া জাহান সুমি: বরিশাল নগরীতে যত্রতত্র ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠছে একের পর এক রেস্তোরাঁ। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের সিংহভাগই চলছে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের তালিকায় মাত্র ৩২টি প্রতিষ্ঠানের নাম থাকলেও বাস্তবে নগরীতে রেস্তোরাঁর সংখ্যা হাজারের ওপরে। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র ছাড়াই কাঁচঘেরা বহুতল ভবনে গড়ে ওঠা এসব রেস্তোরাঁ এখন একেকটি ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর সদর রোডের বহুতল ইমান আলী টাওয়ারের ৯ম ও ১০ম তলায় অবস্থিত স্টার কাবাব ও স্কাই লাউঞ্জ। প্রায় পাঁচ হাজার বর্গফুটের বিশাল এই রেস্তোরাঁ দুটিতে ক্রেতাদের নিরাপত্তার জন্য রয়েছে মাত্র তিনটি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র। ট্রেড লাইসেন্স আর কর্মীদের স্বাস্থ্য সনদ ছাড়া নেই অন্য কোনো বৈধ কাগজপত্র। এমনকি ‘স্কাই লাউঞ্জ’-এর নামে নথিপত্র থাকলেও সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে ‘স্টার কাবাব’-এর।

এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের মালিক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে আবেদন করা হয়েছে।’

একই চিত্র দেখা গেছে শহরের নামী রেস্তোরাঁ ‘হান্ডি কড়াই’তে। রুফটপে যাওয়ার পথটি মাত্র দুই ফুট চওড়া, যা জরুরি অবস্থায় চরম ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া রান্নাঘরের স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন। অভিজাত হিসেবে পরিচিত এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকেরই নেই নিরাপদ খাদ্য সনদ, ফায়ার সার্ভিস কিংবা পরিবেশ দপ্তরের ছাড়পত্র।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) নথি অনুযায়ী নিবন্ধিত রেস্তোরাঁ ৫৫৫টি থাকলেও বাস্তবে এই সংখ্যা এক হাজারের বেশি। অথচ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের গ্রেডিংয়ের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে মাত্র ৩২টি প্রতিষ্ঠান।

বাংলাদেশ হোটেল রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি, বরিশাল জেলা ও মহানগরীর সভাপতি বিশ্বজিৎ ঘোষ বিশু আক্ষেপ করে বলেন, ‘আগে সবকিছু একটি নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় হতো। এখন অনেক মালিকই কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করছেন না।’

বরিশাল জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা গোলাম রাব্বি জানান, ‘বর্তমানে ৩২টি প্রতিষ্ঠান আমাদের গ্রেডিংয়ের আওতায় আছে। বাকিগুলোতে পর্যায়ক্রমে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।’

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন জানান, নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো বলছে, ঝুঁকিপূর্ণ ও নিবন্ধনহীন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে খুব শীঘ্রই বড় ধরনের অভিযানে নামবেন তারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...

https://slotbet.online/