নিজস্ব প্রতিবেদক: এপ্রিলের শুরু থেকেই তীব্র দাবদাহ আর লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বরিশাল নগরীসহ পুরো জেলা। আজ সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষের জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ এবং রোগীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বরিশালে এই সংকটের পেছনে প্রধানত তিনটি কারণ কাজ করছে। প্রথমত, চাহিদা ও সরবরাহের বিশাল ফারাক। ওজোপাডিকো সূত্র জানায়, বরিশালে বর্তমানে পিক আওয়ারে চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে অর্ধেকেরও কম। দ্বিতীয়ত, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ ও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে কয়লা ও গ্যাস আমদানিতে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় দেশের বেশ কিছু বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চলতে পারছে না। এছাড়া কারিগরি ত্রুটি ও গ্রিড সমস্যার কারণেও সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে।
তীব্র গরমে ঘনঘন লোডশেডিংয়ের ফলে শিশু ও প্রবীণরা সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। হাসপাতালে গরমে পানিশূন্যতা ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে শিশুদের ভর্তির হার বেড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় নেবুলাইজেশনসহ জরুরি চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন ডাক্তাররা। এছাড়া পানির পাম্প সচল রাখা সম্ভব না হওয়ায় নগরীতে তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বেশ কিছু কঠোর ও জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সারা দেশে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে সব ধরনের দোকানপাট ও শপিং মল সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (প্রাথমিকভাবে সন্ধ্যা ৬টা বলা হলেও ব্যবসায়ীদের অনুরোধে পরে তা ৭টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়)। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময়সূচিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। সরকার বর্তমানে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানি বাড়িয়ে গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলো সচল করার চেষ্টা করছে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া পরিশোধের উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি আমদানিতে স্থবিরতা না কাটলে এই সংকট আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে। বরিশালের বাসিন্দারা অন্তত রাতের বেলা লোডশেডিং কমিয়ে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি কমানোর এবং সরকারি নির্দেশনা কঠোরভাবে পালনের দাবি জানিয়েছেন। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বৃষ্টির দেখা না পাওয়া পর্যন্ত তাপমাত্রার এই দাপট চলবে, যা বিদ্যুৎ চাহিদা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
https://slotbet.online/