ডেস্ক নিউজ : বাংলাদেশের দ্রুত নগরায়ণ ও ডিজিটাল রূপান্তরের গল্পের আড়ালে এক দশক ধরে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন এক তরুণ সমাজকর্মী। আরিফুর রহমান শুভ নামের এই জলবায়ু আন্দোলনের সংগঠক। নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন দেশের সবচেয়ে উপেক্ষিত এক জনগোষ্ঠীর জন্য—ভূমিহীন, নাগরিক স্বীকৃতিহীন ‘মানতা’ সম্প্রদায়। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে নদী ও জলাভূমি নির্ভর মানতারা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ভূমির অধিকার এবং মৌলিক নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। সরকারি কোনো তালিকায় তাদের ঠাঁই নেই। আর সেখানেই ফাঁকা জায়গায় পা রেখেছেন শুভ। শুধু সহানুভূতি নয়, বাস্তবমুখী উদ্যোগে তিনি গড়ে তুলেছেন এক সম্ভাবনার প্রতীক। আন্তর্জাতিক যুব সংগঠন ইয়ুথনেট গ্লোবাল–এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এবং সারা দেশে ৬৪ জেলায় বিস্তৃত ইকো অলিম্পিয়াডের মাধ্যমে তিনি পৌঁছে গেছেন প্রান্তিকের সবচেয়ে দুর্বল জায়গায়।
কাফনের জমি থেকে নৌকা: এক ভিন্ন মানবিকতার প্রতিচ্ছবি!
শুভর উদ্যোগের তালিকায় আছে এমন সব কাজ, যা হয়তো কখনো বড় সংবাদ শিরোনাম হয়নি—কিন্তু মানতা জনগোষ্ঠীর জন্য যেন এটি অমৃতসম।
শিক্ষার আলো: নিরক্ষরতা দূরীকরণে সাক্ষরতা ক্যাম্পেইন চালিয়ে ইতোমধ্যে বহু মানতাকে পড়তে-লিখতে শেখানো হয়েছে। মানতা শিশুদের মূলধারার শিক্ষায় ফিরিয়ে আনতে চলছে বিশেষ শিক্ষা কর্মসূচি। সবচেয়ে মানবিক উদ্যোগ— দাফনের জন্য জমি, কাফনের খাটিয়া প্রদান। এক প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য মৃত্যুর পরেও মর্যাদা নিশ্চিত করা যে কত বড় কথা, তা সহজে বোঝা যায় না।
জীবিকার পথ তৈরি যেমন, নৌকা বিতরণ, মাছ ধরার জাল প্রদান—অসহায় মানতা পরিবারগুলো এখন স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছে।
নিয়মিত মানবিক সহায়তা: শীতবস্ত্র বিতরণ, প্রতি বছর কুরবানির আয়োজন, মাসব্যাপী খাদ্য সহায়তা—এসবের কোনো সংবাদ সম্মেলন নেই, আছে শুধু হাত বাড়িয়ে দেওয়ার গল্প।
শুধু সমাজসেবা নয়, জলবায়ু ন্যায়বিচারের প্রশ্নেও সোচ্চার আরিফুর রহমান শুভ। দীর্ঘদিন ধরে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পরিবেশ সংরক্ষণে তরুণদের সম্পৃক্ত করতে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে।
২০২৪ সালে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত ইয়াং অ্যাকটিভিস্ট সামিট–২০২৪-এ অংশগ্রহণের সুযোগ পান তিনি। সেখানে বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বাস্তবতা তুলে ধরেন বিশ্ববাসীর সামনে।
স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক উন্নয়ন, মানবিক সহায়তা এবং পরিবেশ আন্দোলনে শুভর ধারাবাহিক উদ্যোগ ইতোমধ্যে তরুণ সমাজের কাছে প্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রান্তিক মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় শুভর মতো ব্যক্তি উদ্যোগই সমাজে টেকসই ইতিবাচক পরিবর্তন আনে। এক দশকের বেশি সময় ধরে যেখানে অনেকেই ক্লান্ত হয়ে পড়েন, সেখানে আরিফুর রহমান শুভ যেন আরও উজ্জীবিত হচ্ছেন। কারণ মানতা জনগোষ্ঠীর একটি শিশুর হাতে খড়ি, একটি পরিবারের নিজস্ব নৌকা, একজন বয়স্ক মানুষের কাফনের ব্যবস্থা—এসবই তার কাছে স্বীকৃতির চেয়েও বড় পাওয়া।
https://slotbet.online/