• মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
রাজধানীতে পুলিশের সাথে গোলাগুলি। গ্রেফতার ১ বাংলাদেশ নিয়ে জাতিসংঘের সতর্কবার্তা। বরিশালে সিটি প্রশাসকের ‘অপারেশন ড্রেজার’ নবনির্মিত রাস্তা রক্ষায় তাৎক্ষণিক অ্যাকশন। পুলিশ কমিশনারের সাথে বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের শুভেচ্ছা ও সৌজন্য সাক্ষাৎ: সার্বিক নিরাপত্তা ও অপরাধমুক্ত নগর গড়ার অঙ্গীকার। বরিশাল আদালত চত্বরে বিস্ফোরন:নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ও তদন্ত শুরু বরিশালে ভুয়া ভিডিও দিয়ে পুলিশ কনস্টেবলকে হয়রানির অভিযোগ, সুষ্ঠু তদন্তের দাবি ভুক্তভোগীর। বরিশাল কাউনিয়া থানা পুলিশের অভিযানে উদ্ধার ১৪টি দেশীয় অস্ত্র, গ্রেপ্তার ২ বরিশালে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ​ব্ল্যাঙ্ক চেক সিন্ডিকেট: চড়া সুদের ফাঁদে ভিটেমাটি শেষ। বিএমপি কমিশনারের আকস্মিক পরিদর্শন:থানা-ফাঁড়িতে স্বচ্ছতা ও জনবান্ধব সেবার নতুন দিশা। লাইসেন্স নবায়নে চরম অনিয়ম, তদারকির অভাবে ঝুঁকিতে রোগীসেবা; উদ্বেগ বিশেষজ্ঞদের।

আকাশ থেকে মাসুদ এরপর কালা-মাসুদ। এক ব্যক্তি, বহু পরিচয়: বরিশালে সংঘবদ্ধ ছিনতাইয়ের মূলহোতা মাসুদ।

প্রতিনিধি / ৪২৯ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : রবিবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০২৬

২৭ মামলার পরও প্রকাশ্যে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড! জননিরাপত্তার হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে মাসুদ।

নিজস্ব প্রতিবেদক | বরিশাল
বরিশাল নগরীর লঞ্চঘাট, কেডিসি সংলগ্ন এলাকা ও আশপাশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধের যে ধারাবাহিক উর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে, তা নগরবাসীর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। ছিনতাই, মাদক কারবার, সংঘবদ্ধ হামলা ও চুরির ঘটনায় আতঙ্কিত স্থানীয়রা বলছেন, এসব অপরাধ বিচ্ছিন্ন নয়। বরং একটি সংগঠিত চক্র পরিকল্পিতভাবে নগরের নির্দিষ্ট এলাকাগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। এই চক্রের কেন্দ্রে যে নামটি বারবার উঠে আসছে, তা হলো কালা মাসুদ। কখনো আকাশ, কখনো মাসুদ, আবার কখনো কালা মাসুদ। পরিচয়ের এই বহুরূপই তার অপরাধ কৌশলের অন্যতম হাতিয়ার। একাধিক পুলিশ সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, মাসুদ দীর্ঘদিন ধরে নাম ও পরিচয় পরিবর্তন করে অপরাধ চালিয়ে আসছে। পুলিশের সাধারণ চেকপোস্ট কিংবা তাৎক্ষণিক অভিযানে আটক হলেও ভিন্ন নাম ব্যবহারের কারণে অনেক সময় সে ডাটাবেজ যাচাই এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়। ফলাফল হিসেবে বারবার গ্রেপ্তার হলেও জামিনে মুক্ত হয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই সে আগের নেটওয়ার্কে ফিরে যায়।
পুলিশ আরো জানায়, মাসুদের বিরুদ্ধে মোট ২৭টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরেই হয়েছে অন্তত ৯টি মামলা। এসব মামলার ধরন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ছিনতাই ও সহিংসতার পাশাপাশি মাদক ব্যবসা, আন্তজেলা মোটরসাইকেল চুরি এবং কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। একসময় ভাড়ায় মানুষ কুপিয়ে আহত করার মতো সহিংস কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সে আরও সংগঠিত ও লাভজনক অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী, মাসুদ বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের গিলাতলী গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয়দের দাবি, তার বাড়িতে একাধিক চোরাই মোটরসাইকেল মজুত রাখা হয় এবং চরমোনাই এলাকাতেও মাদক, জুয়া ও চুরিসহ নানা অপরাধে সে সক্রিয়। শুধু স্থানীয় বাসিন্দাই নয়, তার ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন বিদেশি নাগরিক ও পর্যটকরাও। নগরীর ধোপাবাড়ির মোড়, কলেজ অ্যাভিনিউ, বৈদ্যপাড়া এবং সিন্ডবি রোড, লঞ্চঘাট ও রুপাতলির কিছু অংশে তার গ্রুপের উপস্থিতির কথা শোনা যায়। অভিযোগ রয়েছে, গভীর রাতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা যাত্রীদের দেশীয় অস্ত্র ঠেকিয়ে লুট করা হয়। এসব ঘটনার ক্ষেত্রে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতার বাইরে থাকা স্থান বেছে নেওয়া হয়, যাতে শনাক্তের ঝুঁকি কম থাকে।
গত ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ লঞ্চঘাট এলাকার সিকদার হোটেলের সামনে ঘটে যাওয়া একটি ছিনতাইয়ের ঘটনায় মাসুদের নাম নতুন করে আলোচনায় আসে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ২০ থেকে ৩০ জনের একটি দল নিয়ে সে সুজন নামের এক যুবকের পথরোধ করে নগদ অর্থ, মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। জানা যায় পোর্টরোড এলাকায় মাদক বিক্রি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় মাসুদ। একই সময় মহশিন মার্কেটসংলগ্ন একটি আবাসিক হোটেলে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় আশপাশের এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, একাধিক পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন অপরাধ চালিয়ে যাওয়া সাধারণ অপরাধীর বৈশিষ্ট্য নয়। অপরাধ মনোবিজ্ঞানে একে ‘অ্যাডাপটিভ ক্রিমিনাল আইডেন্টিটি’ বলা হয়। এই ধরনের অপরাধীরা পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিচয় বদলে ফেলে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দুর্বলতা চিহ্নিত করে তা কাজে লাগায়। আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত অপরাধীদের ক্ষেত্রেও এমন প্রবণতা দেখা গেছে। পরিচয় গোপন রাখা এখানে শুধু আত্মরক্ষার কৌশল নয়, বরং পুরো অপরাধ নেটওয়ার্ক সচল রাখার একটি কার্যকর পদ্ধতি।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, এ ধরনের অপরাধীদের মধ্যে কয়েকটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। প্রথমত, তারা ঝুঁকি নিতে অভ্যস্ত এবং আইনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখে। দ্বিতীয়ত, তাদের মধ্যে সহমর্মিতার ঘাটতি থাকে, ফলে ভুক্তভোগীর ক্ষতি তাদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে না। তৃতীয়ত, ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণের প্রতি প্রবল আকর্ষণ থাকে, যা কিশোর গ্যাং বা ছোট অপরাধী দলকে নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রে কাজে লাগে। মাসুদের ক্ষেত্রেও এই বৈশিষ্ট্যগুলো স্পষ্ট বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মাসুদের চক্রের আরেক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে মানিক নামের এক ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, লঞ্চঘাট ও কেডিসি এলাকায় গাঁজা, ইয়াবা ও ফেনসিডিল বেচাকেনায় সে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। তার স্ত্রী সোনিয়াও মাদক পাচারে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের সবকটি এখনো আদালতে প্রমাণিত নয়, তবু স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী চক্রটি ভাঙা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে স্টিমারঘাট ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই গোলাম মো. নাসিম বলেন, বরিশাল শহরে সন্ত্রাসের কোনো জায়গা নেই এবং মাসুদ তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। নতুন করে অপরাধে জড়ানোর কারণে তাকে যে কোনো মূল্যে আইনের আওতায় আনা হবে। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. শফিকুল ইসলামও বলেন, এ ধরনের অপরাধীদের ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।
তবে অপরাধ দমন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধু গ্রেপ্তারই সমাধান নয়। বারবার জামিনে মুক্ত হয়ে অপরাধে ফেরার প্রবণতা ঠেকাতে হলে বিচার প্রক্রিয়ার পাশাপাশি পুনর্বাসনমূলক উদ্যোগ জরুরি। আন্তর্জাতিকভাবে কার্যকর কিছু মডেলে দেখা গেছে, দীর্ঘমেয়াদি কারাগার ব্যবস্থার সঙ্গে মনোসামাজিক কাউন্সেলিং, দক্ষতা প্রশিক্ষণ এবং কঠোর নজরদারির সমন্বয় অপরাধীদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে যুক্ত অপরাধীদের ক্ষেত্রে পরিবারভিত্তিক হস্তক্ষেপ ও কমিউনিটি পর্যায়ে পুনর্গঠনমূলক কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ।


আপনার মতামত লিখুন :

One response to “আকাশ থেকে মাসুদ এরপর কালা-মাসুদ। এক ব্যক্তি, বহু পরিচয়: বরিশালে সংঘবদ্ধ ছিনতাইয়ের মূলহোতা মাসুদ।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...

https://slotbet.online/