• শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
বহু নাটকীয়তার পর সাভারের বহিষ্কৃত ছাএদল নেতা সামির ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার সাভারে জোড়া মামলায় ‘পিস্তল মানিক’ গ্রেপ্তার, প্রধান আসামি সামির এখনও অধরা *পরকীয়া; একটি ভয়ানক সামাজিক ব্যাধি* ৫ নম্বর ওয়ার্ড সচিব জসিমের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ! বরিশাল পলাশপুর এলাকায় বাবুর সাহসিকতায় মাদকের বিরুদ্ধে তরুণদের দৃষ্টান্তমূলক প্রতিরোধ গঠন। ব্যক্তিগত সুদের চুক্তি বা চেকের আইনি বৈধতা নেই: জেনে নিন বৈধ ক্ষুদ্রঋণের নিয়ম সিএমপি মেট্রোপলিটন পুলিশে ব্যাপক রদবদল। বরিশালে কোতোয়ালি থানা পুলিশের অভিযান: নারীসহ ৫ মাদক ব্যবসায়ী আটক, ইয়াবা ও মোটরসাইকেল উদ্ধার ব্যাংক হিসাবে টিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব: নেতিবাচক অর্থনৈতিক প্রভাব ও উত্তরণের উপায় ৫ জেলায় নতুন এসপি, পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ১২ কর্মকর্তাকে বদলি

শাহবাগে ন্যায়বিচারের দাবিতে মানুষের ঢল: হাদির মৃত্যুর ঘটনায় প্রশ্নের মুখে রাষ্ট্র ও শাসনব্যবস্থা।

প্রতিনিধি / ২২৫ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫

হাদি হত্যাকান্ডের বিচার না হলে নিরাপদ থাকবে না কেউ—শাহবাগে জড়ো মানুষের কণ্ঠে ক্ষোভ ও আশঙ্কা!

ডেস্ক নিউজ :
আজকের শাহবাগ যেন আর দশটা দিনের মতো নয়। হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে রূপ নিয়েছে এক প্রতিবাদের জনসমুদ্রে। কোনো দলীয় ব্যানার নেই, নেই ভাড়া করা লোক কিংবা খাবারের প্যাকেট। মানুষ এসেছে নিজের বিবেকের তাড়নায়। একটাই দাবি হাদির ওপর হামলার সুষ্ঠু বিচার। প্রতিবাদকারীদের ভাষ্য, দেশে এখন আর নিয়ম বা আইনের শাসন কার্যকর নেই; কার্যত চলে যাচ্ছে প্রভাবশালীদের দাপট। এমন বাস্তবতায় সাধারণ মানুষের প্রশ্ন একটাই দেশটা আসলে কার নিয়ন্ত্রণে? শাহবাগে জড়ো হওয়া অনেকেই বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেও কি আদৌ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে? কারণ হাদির ওপর প্রকাশ্য হামলার পর দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি, যা জনমনে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
প্রতিবাদকারীদের আশঙ্কা, এখান থেকেই যদি প্রতিরোধ গড়ে না তোলা যায়, তাহলে জুলাইয়ের বিপ্লবে যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল, তাদের একে একে নিশ্চিহ্ন করা হবে। আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট উধাও হচ্ছে, কাল পেজ, পরশু মানুষ—এভাবেই ধাপে ধাপে প্রতিবাদ কণ্ঠ স্তব্ধ করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
হাদির ঘটনায় সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো—তার সংক্রান্ত ভিডিও ও কনটেন্ট একের পর এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে মুছে ফেলা হচ্ছে। এমনকি প্রধান উপদেষ্টার অফিসিয়াল পেজ থেকেও হাদির ভিডিও উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে করে প্রশ্ন উঠেছে—এত বড় পরিসরে কনটেন্ট ‘ক্লিন’ করার ক্ষমতা কার? একই সঙ্গে আলোচনায় এসেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবশালী কণ্ঠগুলোর হঠাৎ উধাও হয়ে যাওয়া। কয়েক মিলিয়ন অনুসারী থাকা একাধিক পেজ ও অ্যাকাউন্ট গায়েব হয়ে যাওয়ায় প্রতিবাদকারীরা বলছেন, এটি নিছক প্রযুক্তিগত সমস্যা নয়—এটি পরিকল্পিত দমন।
আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে অর্থনৈতিক লেনদেন নিয়ে। হাদির ওপর হামলায় জড়িত বলে অভিযুক্ত এক ব্যক্তির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য সামনে এলেও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পক্ষ থেকে কোনো প্রশ্ন তোলা হয়নি বলে দাবি করা হচ্ছে। সাধারণ নাগরিকের সামান্য লেনদেনেই যেখানে ব্যাংক ফোন করে, সেখানে শত কোটি টাকার লেনদেনেও নীরবতা—এই বৈষম্য জনমনে ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে তুলেছে। প্রতিবাদকারীরা তুলনা টানছেন সাম্প্রতিক অন্যান্য ঘটনার সঙ্গে। একটি জাতীয় দৈনিকের ঘটনায় ১২ ঘণ্টার মধ্যে ৩৩ জন গ্রেফতার হলেও, হাদির ঘটনায় দিন-সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। এতে করে প্রশ্ন উঠছে—আইনের প্রয়োগ কি সবার জন্য সমান? ইনকিলাব মঞ্চ ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, তারা এই আন্দোলন থেকে পিছপা হবে না। আজ রাতেও শাহবাগে সিটিং চলবে এবং আগামী দিনে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হবে। পাশাপাশি ৩ জানুয়ারি বিভিন্ন জোটের অংশগ্রহণে বড় সমাবেশের প্রস্তুতির কথাও জানানো হয়েছে।
প্রতিবাদকারীদের কণ্ঠে একটাই বার্তা—হাদির ওপর হামলার বিচার না হলে দেশে আর কারও নিরাপত্তা থাকবে না। আজ যদি একজনের জন্য ন্যায়বিচার না আসে, কাল যে কারও জন্যই দরজা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। শাহবাগের এই জমায়েত তাই শুধু একজন হাদির জন্য নয়—এটি রাষ্ট্রে ন্যায়বিচার ও মতপ্রকাশের অধিকারের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...

https://slotbet.online/