• শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ০১:০৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
বহু নাটকীয়তার পর সাভারের বহিষ্কৃত ছাএদল নেতা সামির ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার সাভারে জোড়া মামলায় ‘পিস্তল মানিক’ গ্রেপ্তার, প্রধান আসামি সামির এখনও অধরা *পরকীয়া; একটি ভয়ানক সামাজিক ব্যাধি* ৫ নম্বর ওয়ার্ড সচিব জসিমের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ! বরিশাল পলাশপুর এলাকায় বাবুর সাহসিকতায় মাদকের বিরুদ্ধে তরুণদের দৃষ্টান্তমূলক প্রতিরোধ গঠন। ব্যক্তিগত সুদের চুক্তি বা চেকের আইনি বৈধতা নেই: জেনে নিন বৈধ ক্ষুদ্রঋণের নিয়ম সিএমপি মেট্রোপলিটন পুলিশে ব্যাপক রদবদল। বরিশালে কোতোয়ালি থানা পুলিশের অভিযান: নারীসহ ৫ মাদক ব্যবসায়ী আটক, ইয়াবা ও মোটরসাইকেল উদ্ধার ব্যাংক হিসাবে টিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব: নেতিবাচক অর্থনৈতিক প্রভাব ও উত্তরণের উপায় ৫ জেলায় নতুন এসপি, পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ১২ কর্মকর্তাকে বদলি

অপারেশন থিয়েটারের শৃঙ্খলা রক্ষায় একা লড়াই:সাহসী চিকিৎসক ডা. ধনদেবের প্রতিবাদি ঝড়।

প্রতিনিধি / ১৯০ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : রবিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২৫

প্রতিবাদের পর চিকিৎসক ডা. ধনদেব বর্মনকে সাময়িক বরখাস্ত।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটির অপারেশন থিয়েটারে বহিরাগতদের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশকে কেন্দ্র করে যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল, তা এখন দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার নৈতিকতা ও প্রশাসনিক আচরণ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। ঘটনাটির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা চিকিৎসক ডা. ধনদেব বর্মন এই ঘটনায় শুধু বরখাস্তই হননি, বরং রোগীর নিরাপত্তা ও পেশাগত শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে উঠেছেন।

ঘটনার দিন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক একদল বহিরাগত, ক্যামেরাম্যান ও সাংবাদিকদের নিয়ে অপারেশন থিয়েটারে প্রবেশ করেন। সংবেদনশীল এই স্থানে বাহিরের লোকদের উপস্থিতি রোগীর সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যবিধির জন্য সরাসরি ঝুঁকি তৈরি করে বলে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা মহলে আলোচিত। কিন্তু ডিজির এই আচরণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। অপারেশন থিয়েটারের একটি টেবিল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করায় সেখানে কর্মরত ডা. ধনদেব বিষয়টি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

ডা. ধনদেব মূলত অপারেশন থিয়েটারের মৌলিক শৃঙ্খলা, স্বাস্থ্যসুরক্ষা এবং রোগীর নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরতে চেয়েছিলেন। দায়িত্বশীল চিকিৎসক হিসেবে তাঁর অবস্থান ছিল পরিষ্কার—সংবেদনশীল স্থানে অপ্রয়োজনীয় ভিড় ও ভিডিও ধারণ কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এর পরও কর্তৃপক্ষ নিজের অবস্থানে অনড় থেকে ঘটনাস্থলে উত্তেজনা বাড়ায়। চিকিৎসক সমাজের অনেকেই মনে করেন, এখানে একজন দায়িত্বশীল কর্মরত চিকিৎসকের যুক্তি ও সতর্কতাকে গুরুত্ব না দিয়ে ক্ষমতার প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

পরবর্তীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ডা. ধনদেবকে সাময়িক বরখাস্ত করে। এই সিদ্ধান্ত প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত নানাভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য মানুষ মন্তব্য করেছেন—রোগীর নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে যিনি আপস করেননি, তিনিই বরখাস্ত হলেন। অনেকের মতে, দেশবাসী এমন চিকিৎসকদের আরও প্রয়োজন, যারা চোখের সামনে ভুল দেখলে তা রুখে দাঁড়াতে পারেন।

একটি ঘটনাই যেন প্রমাণ করে দিয়েছে—স্বাস্থ্যব্যবস্থার নানা জটিলতার মাঝেও কিছু মানুষ এখনো নীতির জায়গায় অবিচল। ডা. ধনদেব বর্মন তেমনই একজন পেশাজীবী, যিনি হাসপাতালের সবচেয়ে সংবেদনশীল স্থানে রোগীর অধিকার রক্ষায় নিজের অবস্থান বদলাননি। বরখাস্ত হলেও তিনি আজ নৈতিক সাহসের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর এই অবস্থান অনেকের কাছে এক ধরনের অনুপ্রেরণা—চাপের মুখেও দায়িত্ব, শৃঙ্খলা ও পেশাগত সততার পক্ষে দাঁড়িয়ে থাকা এখনো সম্ভব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...

https://slotbet.online/