জেমস কাজল গোমেজ, সাভার (ঢাকা): ঢাকার সাভারে কিশোর রিপন ঋষি (১৫) অপহরণ ও নির্মম নির্যাতন এবং একটি গ্যারেজ থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও মালামাল লুটের ঘটনায় দায়ের হওয়া আলোচিত দুই মামলার অন্যতম আসামি মানিক ওরফে ‘পিস্তল মানিক’ ওরফে ‘কিলার মানিক’ (৩৫)-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার মূল হোতা ও বহিষ্কৃত সাভার থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন সামির ওরফে ‘ফেন্সি সামির’ এখনও পলাতক রয়েছেন। সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুল ওয়াহাব গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে রোববার (২৮ জুন) বিকেলে সাভার পৌরসভার রাজাশন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মানিককে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া মানিক কিশোর রিপন ঋষি অপহরণ ও নির্মম নির্যাতনের মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। তার বিরুদ্ধে অপহরণ, গুরুতর জখম ও হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। মানিক মূলত রাজবাড়ী সদর উপজেলার মজলিশপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সাভারে ভাড়া বাসায় থেকে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। এর আগেও একটি হত্যা মামলায় দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকার পর জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনি আবারও অপরাধ চক্রে জড়িয়ে পড়েন। সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ও চলতি দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর মোহাম্মদ জানান, গ্রেপ্তার মানিককে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই চক্রের অন্য সদস্যদের অবস্থান জানার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি অটোরিকশা ও ব্যাটারি লুটের মামলাতেও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে। উল্লেখ্য, চাঁদাবাজি, অটোরিকশা লুট, হামলা, নারী লাঞ্ছনা এবং কিশোর অপহরণ ও নির্যাতনের পৃথক দুটি মামলায় বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা মাহাবুব হোসেন সামিরসহ মোট ৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই অপরাধের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পর ব্যাপক জনরোষের সৃষ্টি হয়, যার প্রেক্ষিতে সাভার মডেল থানা পুলিশ মামলা দুটি রেকর্ড করে। এদিকে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান আসামি মাহাবুব হোসেন সামির এখনও গ্রেপ্তার না হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। তারা অবিলম্বে সামিরকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
https://slotbet.online/