• সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
স্বচ্ছল পরিবারের সন্তান হয়েও চুরিতে আসক্তি বরিশালের টুকুর : সামারী ট্রায়ালে ২ বছরের কারাদণ্ড। প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ! পৃথিবীর সবাই আমরা বিচারক । পূর্ব শত্রুতার জেরে বরিশালে যুবককে কুপিয়ে জখম, থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা। ঘুষের টাকায় জাল বালাম পাশের অভিযোগ। বরিশাল কাগাশুরার মাদক ব্যবসায়ী কে এই তপন ?? ঢাবি শিক্ষার্থীকে মারধর এর ঘটনায় চার পুলিশ সদস্য ক্লোজড, তদন্ত শুরু। বরিশালে ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলায় চার্জশিট, আদালতে প্রেরণ। ট্রাম্পের অভিনন্দন বার্তা: তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঢাকা–ওয়াশিংটন সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত বেতনের সঙ্গে মিলছে না সম্পদ, রাজউক অফিসার পলাশ সিকদার দুদকের জালে!

চট্টগ্রামে সন্ত্রাসীদের গুলিতে র‍্যাবের ডিএডি নিহত!

প্রতিনিধি / ১৮১ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী, ২০২৬

নিয়াজ শেখ: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পাহাড়ঘেরা জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গুলিতে র‍্যাবের এক কর্মকর্তা নিহত হওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অবৈধ পাহাড় দখল নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যায় (১৯ জানুয়ারি) সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জঙ্গল সলিমপুরের ছিন্নমূল এলাকায় এই প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত র‍্যাব সদস্যের নাম মোতালেব। তিনি ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর (ডিএডি) পদমর্যাদায় র‍্যাবের দায়িত্বে ছিলেন। ঘটনায় আরও কয়েকজন র‍্যাব সদস্য আহত হয়েছেন এবং অন্তত তিনজন সদস্য সন্ত্রাসীদের হাতে জিম্মি রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) সিরাজুল ইসলাম নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল এবং এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য উচ্চঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। সলিমপুর এলাকায় গত চার দশকে ব্যাপক পাহাড় কাটার মাধ্যমে গড়ে উঠেছে কয়েক হাজার অবৈধ বসতি। স্থানীয় সূত্র ও প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই দখলদারিত্ব এবং প্লট বাণিজ্য রক্ষায় সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে একটি সুসংগঠিত সশস্ত্র কাঠামো। এলাকাটি কার্যত একটি ‘নিষিদ্ধ নগরী’তে রূপ নিয়েছে, যেখানে বসবাসকারীদের জন্য বিশেষ পরিচয়পত্র চালু রয়েছে। বহিরাগতদের প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত, এমনকি পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রবেশও অনেক সময় বাধাগ্রস্ত হয়।
এই অপরাধ সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রয়েছে দুটি প্রভাবশালী পক্ষ। ‘আলীনগর বহুমুখী সমিতি’র নেতৃত্বে রয়েছেন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ইয়াসিন মিয়া। অন্যদিকে ‘মহানগর ছিন্নমূল বস্তিবাসী সংগ্রাম পরিষদ’ পরিচালনা করছেন কাজী মশিউর ও গাজী সাদেক। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, এই দুই সংগঠনের সম্মিলিত সদস্য সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার, যা এলাকাটিকে কার্যত একটি সমান্তরাল শাসনব্যবস্থার অধীনে নিয়ে গেছে।
জঙ্গল সলিমপুরে প্রশাসনের ওপর সহিংস হামলার ইতিহাস দীর্ঘ। ২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর উচ্ছেদ অভিযান শেষে ফেরার পথে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. উমর ফারুক ও সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ অন্তত ২০ জন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্য আহত হন। ওই সময় সন্ত্রাসীরা ককটেল, ইট ও পাথর নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ গুলি ছুঁড়তে বাধ্য হয়। এর আগেও, ২০২২ সালে একাধিকবার র‍্যাব ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে পাহাড় কাটার যন্ত্রপাতি জব্দ করা হলেও অভিযান শেষ হওয়ার পরপরই আবার শুরু হয় পাহাড় ধ্বংসের কার্যক্রম। স্থানীয় বাসিন্দা ও নিরাপত্তা সূত্র জানায়, প্রবেশমুখে থাকা পাহারাদারদের সংকেত পেয়ে সশস্ত্র গ্রুপগুলো আগেভাগেই পাহাড়ের ওপর অবস্থান নেয় এবং অভিযান চলাকালে অতর্কিত হামলা চালায়। ফলে উচ্ছেদ ও আইন প্রয়োগ কার্যক্রম ক্রমেই আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে।
র‍্যাব কর্মকর্তার প্রাণহানির এই ঘটনা বাংলাদেশে অবৈধ পাহাড় দখল, পরিবেশ ধ্বংস এবং সশস্ত্র অপরাধচক্রের বিস্তারের বিষয়টি নতুন করে আন্তর্জাতিক মনোযোগে এনেছে। বিশ্লেষকদের মতে, জঙ্গল সলিমপুর শুধু একটি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা সমস্যা নয়, বরং এটি পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...

https://slotbet.online/