নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল:
বরিশাল নগরীর পোর্ট রোড বালুর মাঠ এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জেরে মো. রমজান নামে এক যুবককে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে তারই পূর্বপরিচিত কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আহত রমজানের পরিবারের দাবি, রাজনৈতিক বিরোধ ও স্থানীয় আধিপত্যকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে তাকে ডেকে নিয়ে হামলা চালানো হয়। তবে অভিযুক্ত পক্ষের দাবি, রমজানের বিরুদ্ধে এক নারীর ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে, যার জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে তারা দাবি করছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়,গত ৭ মার্চ ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক ১টা ৪০ মিনিটে বরিশাল
সিটি করপোরেশনের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বালুর ঘাট নদীর পাড় এলাকায় রমজানকে ডেকে নেয় শুভ, শাওন, লিটন, বাপ্পি ও মিরাজসহ কয়েকজন। সেখানে নিয়ে গিয়ে তারা তাকে মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে শাওন নামে একজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে রমজানের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপ দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরিবারের অভিযোগ, হামলাকারীরা রমজানের কাছে থাকা নগদ প্রায় ৩৬ হাজার টাকা ও একটি রুপোর চেইন ছিনিয়ে নেয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
রমজানের পিতা কোতোয়ালী মডেল থানায় ছেলের ওপর হামলার ঘটনায় হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেছেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, এখনো পর্যন্ত এ মামলার কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
অন্যদিকে হামলার পর লিটনের স্ত্রী বাদী হয়ে রমজানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। এতে রমজান বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে থেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লিটনের স্ত্রীকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত বিরোধ চলছিলো। কিছু সূত্রের মতে, ওই নারীকে কেন্দ্র করে ব্ল্যাকমেইল ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের জেরে এই সংঘাতের সূত্রপাত হতে পারে। যদিও বিষয়টি তদন্তের আগে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
এদিকে একই ঘটনায় একদিকে হত্যা চেষ্টার মামলা, অন্যদিকে ধর্ষণ মামলা হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে হামলার ঘটনার পর ধর্ষণ মামলা দায়ের হওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন নাগরিকদের মতে, অভিযোগ যাই হোক না কেন-আইনের শাসন নিশ্চিত করতে উভয় মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। তারা মনে করেন, হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা এবং ধর্ষণ মামলারও নিরপেক্ষ তদন্ত করা জরুরি। দু:খৎজনক বিষয় হলো রমজানের পিতার করা হত্যা চেষ্টা মামলায় এখন পর্যন্ত কোন আসমী আটক করতে পারেনি পুলিশ। তাহলে কি স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব নাকি পুলিশের একতরফা বিচারিক দৃষ্টিভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ কোনটা সেটাই জানতে চায় নগরবাসী। এ বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার পুলিশ জানায়, উভয় অভিযোগই গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া ।
প্রতিবেদনে প্রকাশিত ছবিটি ডেমো ছবি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
https://slotbet.online/