• বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
বরিশাল কাউনিয়ায় ২০০ পিস ইয়াবাসহ এক মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার। জিমেইল হ্যাক করে ব্যাংক ও এমএফএস থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া চক্রের মূলহোতাসহ গ্রেপ্তার ২ সিআইডির নতুন ভারপ্রাপ্ত প্রধান ডিআইজি আলি আকবর খান। ওসমান হাদী হত্যাকান্ড নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিস্ফোরক মন্তব্য! চলে গেলেন বর্ষীয়ান কিংবদন্তি নেতা তোফায়েল আহম্মেদ। চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে রেকর্ড পরিমাণ বিদেশি সিগারেট জব্দ! ঢাকা সাভারে মাদকবিরোধী পোস্ট করতে গিয়ে মব মারধর ও মিথ্যা মামলার শিকার যুবক, হুমকিতে বিপন্ন জীবন! সাভারের রাজাসন-চাঁপাইনে মাদক সম্রাট সামির ও তার বাহিনীর ত্রাসের রাজত্ব: জিম্মি এলাকাবাসী ও অপ-সাংবাদিকতার নেপথ্যের এক কাহিনি! বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় ও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন সাবেক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ও এ কে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মামুন ভূঁইয়া। পুলিশের টাকায় মাদকের রাজা, ধরা ছোয়ার বাহিরে সাজাঁ।

চলে গেলেন বর্ষীয়ান কিংবদন্তি নেতা তোফায়েল আহম্মেদ।

প্রতিনিধি / ৫৫ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : সোমবার, ১ জুন, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক |১ জুন ২০২৬

​সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর বর্ষীয়ান সদস্য তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ সোমবার (১ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

​হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও তোফায়েল আহমেদের পারিবারিক সূত্র গণমাধ্যমকে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ দীর্ঘদিন ধরে প্যারালাইজডসহ বিভিন্ন ধরনের বার্ধক্যজনিত ও অন্যান্য শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে তিনি সেখানেই লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। (উল্লেখ্য, ভর্তির দিনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লেও পরবর্তীতে চিকিৎসকরা বিষয়টি নাকচ করে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন)।

​মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী আনোয়ারা বেগম, একমাত্র সন্তান ডা. তাসলিমা আহমেদ জামান মুন্নীসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

বঙ্গবন্ধুকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি ও ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম কিংবদন্তি তোফায়েল আহমেদ ছিলেন ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান সংগঠক। ১৯৬৮-৬৯ মেয়াদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি থাকাকালীন তিনি সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন এবং আইয়ুব বিরোধী তীব্র গণআন্দোলনের নেতৃত্ব দেন।

​তার নেতৃত্বাধীন গণজাগরণের মুখে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে শেখ মুজিবুর রহমানসহ সব আসামিকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। এরপর ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহ্‌রাওয়ার্দী উদ্যান) লাখো জনতার উপস্থিতিতে এক বিশাল সংবর্ধনা সভায় শেখ মুজিবুর রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেন তরুণ ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদ।

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ও সংসদীয় ক্যারিয়ার

রাজনীতিতে তোফায়েল আহমেদের হাতেখড়ি হয়েছিল ছাত্রলীগের মাধ্যমে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি ইকবাল হলের (বর্তমানে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) ভিপি এবং পরবর্তীতে ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন।

​১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে মাত্র ২৭ বছর বয়সে তিনি প্রথমবার পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি ‘মুজিব বাহিনী’র অঞ্চলভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত চার প্রধানের অন্যতম একজন হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালের ১৪ জানুয়ারি প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক সচিবের দায়িত্ব লাভ করেন তিনি।

​দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি ভোলা জেলা থেকে মোট নয়বার জাতীয় সংসদের সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা সরকার গঠন করলে তিনি শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পরবর্তীতে ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে তিনি সফলভাবে বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। রাজনীতির মাঠে ও দলে তিনি দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং সর্বশেষ উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য হিসেবে যুক্ত ছিলেন। রাজনৈতিক কারণে ১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তনের পর থেকে টানা ৩৩ মাসসহ জীবনের বিভিন্ন সময়ে বহুবার তাকে কারাভোগ করতে হয়েছে।

জন্ম ও শিক্ষাজীবন

তোফায়েল আহমেদ ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মৌলভী আজহার আলী এবং মায়ের নাম ফাতেমা বেগম।

​তিনি ১৯৬০ সালে ভোলা সরকারি হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং ১৯৬২ সালে বরিশাল ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। ১৯৬৪ সালে বিএসসি পাস করার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিষয়ে এমএসসি ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।

​ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের মহানায়ক এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম এই পুরোধা ব্যক্তিত্বের প্রয়াণে রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...

https://slotbet.online/