• শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
আইনের চোখে ধুলো দিয়ে পলাতক প্রভাবশালী দুই ভাই: চেক জালিয়াতির মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত তুহিনের খুঁটির জোর কোথায়? বরিশালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অনন্য এক অধ্যায়ের অবসান : পুলিশ থেকে র‍্যাবে চৌকস পরিদর্শক ছগির হোসেন। বরিশাল আগৈলঝাড়ায় গুজবকে কেন্দ্র করে থানায় হামলার ঘটনায় ১৮ জন গ্রেফতার। বরিশালে আবাসন ব্যবসায়ীর প্রতিষ্ঠানের ঢুকে এমডি কে নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত লিটুসহ গ্রেপ্তার ২ আলোর দুই ফেরিওয়ালা: পাহাড়ের দুর্গমতা আর সমতলে মাদকের আঁধার ভেঙে সমাজ গড়ার দুই অকুতোভয় বন্ধুর গল্প তেহরানে খামেনির স্মরণকালের সেরা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া: শোকের সাগরে ইরান বহু নাটকীয়তার পর সাভারের বহিষ্কৃত ছাএদল নেতা সামির ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার সাভারে জোড়া মামলায় ‘পিস্তল মানিক’ গ্রেপ্তার, প্রধান আসামি সামির এখনও অধরা *পরকীয়া; একটি ভয়ানক সামাজিক ব্যাধি* ৫ নম্বর ওয়ার্ড সচিব জসিমের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ!

বরিশালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অনন্য এক অধ্যায়ের অবসান : পুলিশ থেকে র‍্যাবে চৌকস পরিদর্শক ছগির হোসেন।

প্রতিনিধি / ৬১ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬

মাঠপর্যায়ের পুলিশিংয়ে বরিশালে বড় শূন্যতার আশঙ্কা

বিশেষ প্রতিবেদন, দৈনিক নাগরিক বরিশাল |

নিয়াজ শেখ : বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) অপরাধ দমনের ইতিহাসে অন্যতম সাহসী, দূরদর্শী ও আপসহীন কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) মো. ছগির হোসেন র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নে (র‍্যাব) বদলি হয়েছেন। পুলিশের নির্ভরযোগ্য কয়েকটি সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। চাকুরী জিবনের এই দীর্ঘ সময়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের একাধিক শাখার নিজের কর্মদক্ষতার সুনিপুণ এবং গৌরবের চিন্হ রেখে গেছেন এই কর্মকতা। যেখানে সবাই ব্যার্থ হয়েছেন সেখানেই ছগির হোসেন দেখিয়েছেন তার অসামান্য কৃতিত্ব্য ও সফলতা। অপরাধীদের কাছে ছিলেন এক মূর্তিমান আতংক, পুরো নগরীর বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডের খবর পাওয়া মাএই তা পূর্বেই রুখে দেওয়া, মাদক সিন্ডিকেট উপড়ে ফেলা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সাহসিকতার সাথে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাঁর অনন্য ভূমিকা আজ সর্বজনস্বীকৃত। তবে নগরীর বর্তমান সার্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় হঠাৎ করেই এই চৌকস কর্মকর্তার বিএমপি ছেড়ে চলে যাওয়া নগরীতে অপরাধ দমনে পুলিশের কর্মদক্ষতায় নিয়ে আসতে পারে ধীর গতি এবং বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। পূর্ব অভিজ্ঞতা এবং অপরাধ প্রবনতার ধরন দেখেই অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসতে সক্ষম ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা জনাব ছগির হোসেন। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অধিকাংশ নতুন কর্মকর্তাদের ভিড়ে এরকম দক্ষ ও পুরাতন কর্মকর্তার চলে যাওয়ার খবর মাঠপর্যায়ের পুলিশিংয়ে একটি অপূরণীয় ক্ষতি এবং বড় ধরনের শূন্যতা হিসেবে দেখছেন নগরবাসী ও সংশ্লিষ্ট মহল। পুরো শহরের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বছরের পর বছর ধরে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম ও একের পর এক দূরদর্শী অভিযান পরিচালনা করেছেন তিনি। এমতাবস্থায় সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে— একজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তার এই হঠাৎ চলে যাওয়ায় তৈরি বিশাল শুন্যতা ভবিষৎতে (বিএমপি) পুলিশ কতটুকু পূরণ করতে পারবে? ​ইন্সপেক্টর মো. ছগির হোসেনের কর্মজীবন ছিল সাহসিকতা ও সফলতায় ঘেরা। ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত কাউনিয়া থানায় পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি স্থানীয় অপরাধের চিত্র বদলে দিতে জুয়া ও মাদকের আখড়াগুলোতে কঠোর আঘাত হানেন এবং বহু বছরের পলাতক ও পরোয়ানাভুক্ত বেশ কয়েকজন দুর্ধর্ষ আসামিকে আইনের আওতায় আনেন। পরবর্তীতে কোতোয়ালি মডেল থানায় পরিদর্শক (তদন্ত) হিসেবে যোগদানের পর নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে দ্রুত অ্যাকশনে নামেন তিনি। সেখানে নগরীর চাঞ্চল্যকর চুরি, ছিনতাই রোধ এবং উঠতি বয়সী ‘কিশোর গ্যাং’-এর অপতৎপরতার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও দৃশ্যমান কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক সমাদৃত ও প্রশংসিত হন। অপরাধ দমনে তাঁর আরেকটি বড় সাফল্য ছিল বরিশাল নগরীর আন্ডারওয়ার্ল্ডের অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী, ছিনতাইকারীদের গডফাদার এবং ২৬টি মামলার কুখ্যাত ভাড়াটে খুনি আকাশ হাওলাদার ওরফে ‘কালা মাসুদ’কে খাঁচাবন্দি করা। অত্যন্ত গোপনে ও নিখুঁত ছক এঁকে একটি শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে তিনি এই দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসেন। এছাড়া কোতোয়ালি মডেল থানার হেফাজত থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের এক শীর্ষ নেতা পালিয়ে যাওয়ার পর চারদিকে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হলে, তিনি নিজের সুদক্ষ গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক ও প্রযুক্তিগত বিচক্ষণতাকে কাজে লাগিয়ে মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে ওই শীর্ষ নেতাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন এবং বাহিনীর সম্মান ও ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখেন।অন্যদিকে মাদক কারবারিরা যখন প্রতিনিয়ত তাদের রুট ও কৌশল পরিবর্তন করছিল, তখন তিনি অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে বেশকয়েকটি বড় মাদক চালানের রহস্যভেদ করেন। চলে যাওয়ার আগেও বরিশাল নগরীর হাতেম আলী চৌমাথা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তেলের ট্যাংকের ভেতরে সেভেনআপের বোতলে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় ৬ হাজার পিস ইয়াবাসহ সাতক্ষীরার এক আন্তঃজেলা মাদক কারবারি মাহাবুব শেখকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেন তিনি। বিএমপির ডিবি (গোয়েন্দা) পুলিশে কর্মরত থাকাকালীন কেডিসি বালুর মাঠ এলাকার রাজ্জাক স্মৃতি কলোনিতে এক সুনির্দিষ্ট ও বিশাল অভিযানে বিএমপির ইতিহাসের অন্যতম রেকর্ড পরিমাণ ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেন ছগির হোসেন, যা ওই অঞ্চলের সুসংগঠিত মাদক সিন্ডিকেটের চেইন অব কমান্ড পুরোপুরি ভেঙে চুরমার করে দেয়। একই সাথে বরিশালের শীর্ষ মাদক সম্রাট এবং শায়েস্তাবাদের কথিত মেম্বার রাসেল ওরফে ‘মেম্বার রাসেল’কে বিপুল পরিমাণ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, তাজা গুলি ও মাদকসহ গ্রেপ্তার করে স্থানীয় জনপদে দীর্ঘদিনের আতঙ্ক দূর করেন এই বীরত্বপূর্ণ কর্মকর্তা।

যদিও প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক নিয়মে বদলি পুলিশের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও, মাঠপর্যায়ের পুলিশিং কর্মকান্ডে মো. ছগির হোসেনের মতো একজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তার বিদায় বরিশাল নগরীর সচেতন মহলে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, বিএমপি নেতৃত্ব কীভাবে এই যোগ্য কর্মকর্তার শূন্যতা কাটিয়ে,নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জননিরাপত্তা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...

https://slotbet.online/