• সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ১১:৩২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
জামিনে বেরিয়েই মাদক বিক্রি! এক সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও ২৭১ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার সোহাগীসহ ৪ বরিশালে রহস্য জনক নারী রুবির বিরুদ্ধে প্রতারণা মামলা। কি জানালেন কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা? বরিশালে আইনজীবী সোহেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা। বরিশাল কাউনিয়ায় থানা পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ আটক ৩ পর্দার আড়ালে বঞ্চিত মানুষের জন্য আরিফুর রহমান শুভর দশকব্যপী নীরব বিপ্লব! বরিশালে মাদক কিংপিন সোহাগী গ্রেপ্তার, উদ্ধার ইয়াবা-গাঁজা-নগদ ৭ লাখ টাকা! বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের নতুন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নিলেন মোঃ আশিক সাঈদ ঠিকানা পড়তে গিয়েই সব অন্ধকার,নিখোঁজ কিশোর সান বর্তমানে কাউনিয়া থানা পুলিশের জিম্মায়। বরিশালে বিপুল পরিমাণ মাদক ইনজেকশনসহ দম্পতি গ্রেপ্তার! ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডে চলছে রক্তে ভেজা সিংহাসনের লড়াই—একের পর এক লাশ,নেই থামার নাম!

সক্ষমতা থাকতেও অন্ধকারে দেশ: লোডশেডিং আসলে ‘ডলার ও ঋণের সংকট’!

প্রতিনিধি / ৮০ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬

বিশেষ প্রতিবেদন:
দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা ২৮ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে, যা সর্বোচ্চ চাহিদার তুলনায় প্রায় ১০ হাজার মেগাওয়াট বেশি। অথচ রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম—সবখানেই ফিরে এসেছে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের বিভীষিকা। কেন সক্ষমতা থাকার পরও জনজীবন বিপর্যস্ত? পৃষ্ঠপোষক সংস্থা ও বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ বলছে, এটি উৎপাদন ঘাটতির সংকট নয়; বরং এটি একটি ভয়াবহ আর্থিক ও জ্বালানি আমদানি নির্ভরতার দুষ্টচক্র।

আর্থিক চিত্র: ৯০ হাজার কোটি টাকার লোকসানের বোঝা

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) বর্তমান আর্থিক অবস্থা সংকটের মূলে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটির পুঞ্জীভূত নিট লোকসান বর্তমানে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯০ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকা। একদিকে উৎপাদন খরচ গড়ে ১২ টাকা ৩৫ পয়সা, অন্যদিকে ভোক্তার কাছে বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৬ টাকা ৬৩ পয়সায়। এই বিশাল ঘাটতি পোষাতে সরকার চলতি অর্থবছরে ভর্তুকি দিয়েছে ৬২ হাজার কোটি টাকা।

তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কঠোর শর্তের কারণে সরকার এই ভর্তুকির পরিমাণ কমিয়ে ৩৭ হাজার কোটির নিচে নামিয়ে আনতে বাধ্য হচ্ছে। এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে, বিপিডিবির হাতে বিদ্যুৎ কিনতে বা জ্বালানি আমদানি করতে প্রয়োজনীয় নগদ অর্থের প্রবাহ ক্রমশ শুকিয়ে আসছে।

বিদেশি মুখাপেক্ষিতা ও ডলার সংকটের থাবা

লোডশেডিংয়ের দ্বিতীয় প্রধান কারণ জ্বালানি আমদানির সক্ষমতা হারানো। দেশের বিদ্যুৎ খাত এখন পুরোপুরি আমদানিনির্ভর। চীন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়া থেকে তেল এবং আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানি করতে হয়। অথচ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক চাহিদামতো ডলার সরবরাহ করতে পারছে না।

একইসঙ্গে, ভারতের আদানি পাওয়ার থেকে নিয়মিত বিদ্যুৎ আমদানি করতে গিয়ে বকেয়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে বেসরকারি উৎপাদনকারী ও জ্বালানি সরবরাহকারীদের কাছে বিপিডিবির মোট দেনার পরিমাণ ৪৬ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এই বকেয়ার কারণে অনেক সরবরাহকারী জ্বালানি তেলের নতুন চালান দিতে অনীহা প্রকাশ করছে। ফলে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো চালু রাখা যাচ্ছে না।

যে পাঁচ কারণে ঘন ঘন লোডশেডিং

সংবাদমাধ্যম ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা লোডশেডিংয়ের পেছনে নিম্নোক্ত কারণগুলো চিহ্নিত করেছেন:

১. উৎপাদন সক্ষমতার অপমৃত্যু: দেশের মোট সক্ষমতা ২৮ হাজার মেগাওয়াটের বেশি হলেও ডলার ও জ্বালানি সংকটে বর্তমানে ১২-১৪ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। গ্রীষ্মের চাহিদা ১৭ হাজার মেগাওয়াট ছোঁয়ায় এই ঘাটতি প্রকট আকার ধারণ করে।

২. ক্যাপাসিটি চার্জের ফাঁদ: বিদ্যুৎ নেওয়া হোক বা না হোক, বেসরকারি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য বিপুল অঙ্কের “ক্যাপাসিটি পেমেন্ট” গুনতে হয় বিপিডিবিকে। এই বোঝা সংস্থার বার্ষিক আয়ের সিংহভাগ খেয়ে ফেলছে, ফলে নতুন জ্বালানি কেনার অর্থ থাকছে না।

৩. সিস্টেম লস: ট্রান্সমিশন ও বিতরণ ব্যবস্থায় এখনও ১০ শতাংশের বেশি বিদ্যুৎ অপচয় হয়। উন্নত দেশগুলোতে যা ৫-৬ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এই অদক্ষতার কারণেও ঘাটতি আরও বাড়ে।

৪. ডলার সংকট: এটি বর্তমান সংকটের মূল নিয়ামক। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেলেও রিজার্ভের চাপের কারণে সময়মতো আমদানি বিল পরিশোধ করা যাচ্ছে না।

৫. রাজনৈতিক সমন্বয়হীনতা: আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়লেও ভোক্তা পর্যায়ে রাজনৈতিক কারণে দাম সমন্বয় করা হয়নি। উৎপাদন খরচ ও বিক্রয়মূল্যের এই ব্যবধানই বিপিডিবির লোকসানের মূল কারণ।

সমাধানের পথ ও বাস্তব চ্যালেঞ্জ

এমন পরিস্থিতিতে করণীয় কী? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তিনটি স্তরে কাজ করতে হবে। প্রথমত, স্বল্পমেয়াদি সাশ্রয় হিসেবে ব্যয়বহুল তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের হার ১০.৭৩% থেকে কমিয়ে ৫% -এ নামাতে হবে, এতে ভর্তুকির বোঝা প্রায় ২৩% কমবে। দ্বিতীয়ত, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ঘটাতে হবে। নতুন মাস্টারপ্ল্যানে ২০৫০ সালের মধ্যে সোলারসহ নবায়নযোগ্য উৎসের অংশ ৫০% করার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। তৃতীয়ত, আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়িয়ে নেপাল-ভুটান থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি দ্রুত এগিয়ে নিতে হবে।

তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, সরকারি মহাপরিকল্পনায় এখনো কয়লা ও এলএনজির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার ইঙ্গিত রয়েছে। গ্রিড আধুনিকায়নের গতি ধীর হওয়ায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি সঞ্চালনের সক্ষমতাও সীমিত। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) মনে করছে, চাহিদার অতিরঞ্জিত প্রাক্কলন ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যয়বহুল চুক্তি পর্যালোচনা না করলে এ সংকট থেকে স্থায়ী মুক্তি মিলবে না।

সর্বোপরি, বিদ্যুৎ খাতের এই লোকসানের চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কাঠামোগত সংস্কার সবচেয়ে জরুরি। তা না হলে সক্ষমতার পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়েও জনগণকে অন্ধকারেই কাটাতে হবে দীর্ঘ সময়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...

https://slotbet.online/