অভিযোগের কেন্দ্রে আজনি হরফে আযু ও তার সংঘবদ্ধ চক্র।
পর্ব : ১
ডেস্ক নিউজ: হানি ট্র্যাপ কোনো নতুন কৌশল নয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও স্নায়ুযুদ্ধকালে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই পদ্ধতিতে গোপন তথ্য আদায় করত। সময়ের সঙ্গে সেই কৌশল এখন অপরাধচক্রের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। বরিশাল নগরীতেও সম্প্রতি এমনই একটি সংঘবদ্ধ হানি ট্র্যাপ চক্রের ভয়ংকর চিত্র সামনে আসছে। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, বরিশাল সদর উপজেলার স্বরোড এলাকার বাসিন্দা আজনি, যিনি আযু নামেও পরিচিত, দীর্ঘদিন ধরে হানি ট্র্যাপ ও মাদক সংশ্লিষ্ট একটি চক্র পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত। এছাড়াও রিতা, পাখি, আখি মনি, ইশিতাসহ হাফ ডজন সদস্যের তথ্য ইতিমধ্যে পাওয়া গিয়েছে। এই চক্রের বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেইল, চাঁদাবাজি এবং একাধিক গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আজনির অপরাধ জগতের সূচনা হয় বরিশালের আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী সজিব হরফে বাটি সজীবের মাধ্যমে। স্থানীয়দের দাবি, সজিবের হাত ধরেই আজনি মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে ব্যক্তিগত সম্পর্ককে ব্যবহার করে হানি ট্র্যাপের ফাঁদ বিস্তার করতে শুরু করে। অভিযোগ অনুযায়ী, আজনির ব্যক্তিগত সম্পর্কগুলোই ধীরে ধীরে পরিণত হয় অপরাধের হাতিয়ারে।
স্থানীয় যুবক সাব্বীরের সঙ্গে আজনির প্রথম প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
পরে বরিশাল জেলা স্কুল সংলগ্ন জর্ডান রোড এলাকার বাসিন্দা রিয়াদের সঙ্গে তার বিবাহ হয়, তবে সেই সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
রিয়াদের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর আজনি বরিশালের বাংলাবাজার এলাকার বাসিন্দা সরজের সঙ্গে বিবাহের সম্পর্কে জড়ান বলে জানা যায়।
স্থানীয় সূত্র আরও দাবি করেছে, এসব সম্পর্কের বাইরে আজনির একাধিক বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল।
নগরীর কাউনিয়া এলাকার পরিচিত মাদক ব্যবসায়ী বাবুর সঙ্গে আজনির বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিলো, যা স্থানীয়ভাবে ওপেন সিক্রেট।
এছাড়াও পলাশপুর এলাকার সুমন হরফে মান্না সুমনের সঙ্গে আজনিকে একাধিকবার বিভিন্ন বিতর্কিত স্থানে দেখা গেছে বলে। এ বিষয়ে বাজাররোড এলাকার বাসিন্দা রায়হান বলে পিয়াজ পট্টির একটি বাসায় আজনির সাথে বরিশালের একাধিক মাদক ব্যবসায়ীদের আনাগোনা দেখা যায়।
সূত্রের দাবি, আজনির নগরীর একাধিক এলাকায় গোপন ডেরা রয়েছে । কলেজ রোড, পিয়াজপট্টি ও ফকিরবাড়ি এলাকার কয়েকটি ফ্ল্যাট বাসায় তার নিয়মিত যাতায়াত ছিল, যেখানে মাদক ও হানি ট্র্যাপ–সংক্রান্ত কার্যক্রম চলত বলে অভিযোগ। এসব স্থানের ভিডিও ক্লিপসহ কিছু তথ্য ইতোমধ্যে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের হাতে পৌঁছেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নগরীর এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, আজনির ফাঁদে পা দিয়ে তিনি নগদ পাঁচ লাখ টাকা এবং তিন ভরি স্বর্ণ দিতে বাধ্য হন। সম্মানের ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা হয়েছিল। তাই থানায় যাওয়ার সাহস পাইনি,বলেন তিনি। ভুক্তভোগীর আরও অভিযোগ, এই চক্রে সাংবাদিক পরিচয়ধারী কয়েকজন ব্যক্তি ছিল, যারা ভয়ভীতি দেখানো এবং ঘটনাগুলো ধামাচাপা দিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখত। সাম্প্রতিক সময়ে বরিশালে হানি ট্র্যাপ–সংক্রান্ত একাধিক ঘটনায় কিছু সদস্য আটক হলেও আজনি ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা বারবার অধরা থেকে যাচ্ছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় কি এই চক্র বছরের পর বছর ধরে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে?
এই প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আজনির বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
বরিশালবাসী এখন জানতে চায়— কে বা কারা এই চক্রকে আড়াল করছে, এবং কবে এই হানি ট্র্যাপের অন্ধকার জালের পূর্ণাঙ্গ পর্দা উঠবে? এ নিয়ে বিস্তারিত থাকছে ২য় পর্বে……
পার্ট–২ : কার স্বার্থে নীরব প্রশাসন, কার ছত্রছায়ায় চক্রটি সক্রিয়।
https://slotbet.online/