ইনসাফের শাসন ও নিরাপদ বাংলাদেশের পরিকল্পনার ঘোষণা।
নিজস্ব প্রতিবেদক :
দীর্ঘ ৬ হাজার ৩১৪ দিন পর স্বদেশের মাটিতে ফিরেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বেলা পৌনে ১২টার দিকে তাকে বহনকারী বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার (ফ্লাইট নং বিজি-২০২) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এর আগে একই দিন সকাল ১০টায় ওই ফ্লাইটটি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ সময় বুধবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টায় ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন তারেক রহমান। স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান তার সফরসঙ্গী ছিলেন। বিমানবন্দরে অবতরণের পর দুপুর ১২টা ৩৬ মিনিটে সিআইপি গেট থেকে বুলেটপ্রুফ বাসে করে রাজধানীর পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। বাসটির গায়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বড় প্রতিকৃতি ছিল। তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে বিমানবন্দরগামী সড়কের দুই পাশে অবস্থান নেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। স্লোগান ও উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মঞ্চে ওঠেন তারেক রহমান। বেলা ৩টা ৫৭ মিনিটে বক্তব্য শুরু করে তিনি বলেন, ‘প্রিয় বাংলাদেশ’। এরপর দেশবাসীকে সালাম জানিয়ে মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন। তিনি বলেন, ‘আপনাদের দোয়ায় প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরে আসতে পেরেছি। বক্তব্যে তারেক রহমান দেশবাসীর উদ্দেশে ‘ইনসাফের শাসনের’ বার্তা দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ কথা বলার অধিকার ও গণতন্ত্রের অধিকার ফিরে পেতে চায়। বিএনপি একটি শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়। মার্টিন লুথার কিংয়ের বিখ্যাত উক্তির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আজ আমি বলতে চাই— আই হ্যাভ আ প্ল্যান, পিপল অব মাই কান্ট্রি, ফর মাই কান্ট্রি। এই পরিকল্পনা দেশের মানুষের স্বার্থেই। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে গণতন্ত্রকামী প্রতিটি মানুষের সমর্থন প্রয়োজন। নিরাপদ বাংলাদেশের স্বপ্ন তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যে বাংলাদেশে নারী, পুরুষ, শিশু—যেই হোক না কেন, নিরাপদে ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদে ফিরে আসতে পারে।’ পাহাড়-সমতল, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে দেশ গড়ার আহ্বান জানান তিনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যে কোনো মূল্যে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে হবে। কোনোভাবেই এর অবনতি ঘটতে দেওয়া যাবে না। বক্তব্যের শেষাংশে তারেক রহমান দেশবাসীকে নিয়ে আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেন এবং বলেন, আগামী দিনে যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসবেন তারা যেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর ন্যায়পরায়ণতার আদর্শ অনুসরণ করে দেশ পরিচালনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। দীর্ঘদিন পর দেশের মাটিতে ফিরে তারেক রহমানের এই সংবর্ধনা ও বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
https://slotbet.online/